স্বপ্নপূরণের দুয়ারে হালান্ড
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:২০
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে মাত্র চারবার অংশ নিয়েছে নরওয়ে। সর্বশেষ অংশ নিয়েছে প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৮ সালে। নরওয়ের ফুটবলের পোস্টারবয় আরলিং হালান্ড তখন জন্মগ্রহণও করেননি। ২৫ বছর বয়সী এই ম্যানচেস্টার তারকা ছোটবেলা থেকে বিশ্বকাপের স্বপ্ন লালন করে আসছেন। আগামীকাল বুধবার রাতে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে দেশটির ফুটবলের রূপকথার নায়ক হালান্ডের।
বিশ্বফুটবলে বর্তমান সময়ের সেরা তারকাদের অন্যতম হালান্ড। এরই মধ্যে ক্লাবের হয়ে দুবার প্রিমিয়ার লিগ ট্রফির পাশাপাশি জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাও। ক্লাবের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও কম হয়। অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ইংল্যান্ড থেকে অনেক পদকই জিতেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলতে না পারার আক্ষেপ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল ম্যানসিটি স্ট্রাইকারকে।
ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বকাপে নিজ দেশ বাদে নানা দেশকে খেলতে দেখেছেন হালান্ড। নরওয়েকে আবার বিশ্বকাপে ফেরানো নিয়ে স্বপ্ন বুনতে থাকেন। এবারের ইউরো অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হালান্ডের নৈপুণ্যে আবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। গত নভেম্বরে মিলানে বাছাইপর্বের ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দেশটি। বাছাইপর্বের আট ম্যাচে হালান্ড একাই করেন ১৬টি গোল। যেটা বাছাইপর্বের আট ম্যাচে যে কোনো ফুটবলারের চেয়ে আট গোল বেশি।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পর হালান্ড গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা জীবনে নরওয়েকে কখনও বিশ্বকাপে খেলতে দেখিনি আমি। অবশ্যই নরওয়েকে বিশ্বকাপে দেখতে পেলে ভালো লাগত। এখন আমি সুখী যে, আমরা বিশ্বকাপে খেলব। নরওয়ের শিশুরা এবার তাদের দেশকে বিশ্বকাপে দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমি নিশ্চিত তারা সারা জীবন এই মুহূর্তকে স্মরণে রাখবে।’
ম্যানসিটির ৯ নম্বর জার্সিধারী এ স্ট্রাইকার যোগ করেন, ‘২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি (দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর) আমার মনে আছে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের কথাও আমার মনে গেঁথে আছে। যে আসরে জেমস রদ্রিগেজ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। আর আসলে বিশ্বকাপের এসব মুহূর্তই মানুষের মনে গেঁথে থাকে। আশা করছি, এবারের টুর্নামেন্টে আমরাও তেমন কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের অংশীদার হতে পারব। গোটা জাতিকে সঙ্গে নিয়ে টুর্নামেন্টে বিশেষ কিছু করে দেখাতে চাই আমরা এবং আশা করছি, আমরা সেটা করে দেখাতে সক্ষম হব। দেশ হিসেবে নরওয়ের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। যে কারণে একজন নরওয়েজিয়ান হিসেবে গর্ব অনুভব করি।’
ফুটবল অনুরাগীরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অনেকবারই বিশ্বের দুই সেরা ফুটবলার হালান্ড ও এমবাপ্পের দ্বৈরথ দেখেছেন। বিশ্বকাপ আসরে ফ্রান্স ও নরওয়ে একই গ্রুপে (আই) থাকায় মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যানসিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
- বিষয় :
- আরলিং হ্যালন্ড
- নরওয়ে
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬