ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশনে ৯২ লাখ স্বাক্ষর

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশনে ৯২ লাখ স্বাক্ষর
×

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অনলাইন পিটিশন। স্ক্রিনশট

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২২ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০৪

ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে একটি অনলাইন পিটিশনে ৯২ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। আয়োজকদের দাবি, ফিফা এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা সক্রিয়ভাবে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসির পক্ষ নিচ্ছেন।

গণস্বাক্ষরের এই আয়োজন করা হয়েছে ‘আর্জেন্টিনা আউট ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইটে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে স্বাক্ষরের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্বাক্ষরকারীদের সংখ্যাও নিয়মিত বাড়ছে।

পিটিশনটিতে লেখা হয়েছে, ‘এটি স্পষ্ট যে ফিফা এবং রেফারিরা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। বিজয়ী কে হবে তা যদি আগেই ঠিক করা থাকে, তবে বাকিদের প্রতিযোগিতা করার দরকার কী? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দিন এবং অন্যদের একটি ন্যায্য সুযোগ দিন।’

এক সপ্তাহ আগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা মিসরের বিপক্ষে এক নাটকীয় জয় পায়। তখন থেকেই ম্যাচটিতে চরম অন্যায় ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে। মিসরের দাবি, আগের একটি ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর তাদের করা একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। অথচ মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলটি বহাল রাখা হয়। 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

মিসরের যুক্তি, জয়সূচক গোলটি বাতিল করা এবং মিসরকে পেনাল্টি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও ভিএআর পর্যালোচনা করা উচিত ছিল।

ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিণাম যাই হোক না কেন, আমি আমার মনের কথাই বলব। এই ম্যাচটি স্পষ্টতই পাতানো ছিল, সবাই তা দেখেছে। তারা যদি আর্জেন্টিনাকে জেতাতে চায়, তবে বাকিদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর কী দরকার ছিল?’

হাসান দাবি করেন, ফিফা কেবল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। সংস্থাটি ফেয়ার প্লে’র প্রচার করে, কিন্তু মাঠে সেটির কিছুই দেখা যায়নি। ওই ভুলগুলো না হলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতো।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ভিএআর-এর এই যুগে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা প্রায় অসম্ভব। সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। ১৯৮৬ সালেও তারা বলেছিল আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে। এটি নতুন কিছু নয়।

স্কালোনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবকিছুকে বড় করে দেখায় এবং বিতর্ক উসকে দেয়। মাঠের খেলায় আজকাল কাউকে অন্যায়ভাবে সাহায্য করা খুবই কঠিন। বহু বছর আগে হয়তো এ ধরনের কাজ সম্ভব ছিল। তবে এখন এটি প্রায় অসম্ভব।

আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে বিজয়ীরা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে লড়বে।

(সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের মূল প্রতিবেদনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা উল্লেখ ছিল ৬০ লাখ। পিটিশনের ওয়েবসাইটে বুধবার দুপুরের তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়েছে)

আরও পড়ুন

×