ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এই রিয়াল মাদ্রিদে অচেনা মরিনহো

এই রিয়াল মাদ্রিদে অচেনা মরিনহো
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:০৫

রিয়াল মাদ্রিদকে উদ্ধারের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ১৪ মৌসুম পর আবার ফিরেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’। তবে এ যেন এক নতুন হোসে মরিনহো। যে ইগোর জন্য স্পেশাল ওয়ান নামটা ছড়িয়েছিল, সেই ইগোটাই দেখা যাচ্ছে না পর্তুগিজ এ কোচের মধ্যে। রিয়াল মাদ্রিদের পুরোনো লোক, যারা ১৪ বছর আগে মরিনহোকে দেখেছেন, তারাই নাকি এখন তাঁকে চিনতে পারছেন না। এই মরিনহো কি পারবেন রিয়ালের দিন ফেরাতে? দুই বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে?

মরিনহোকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তারা ভালো করেই জানেন তিনি কেমন। কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও কর্মনীতিতে আপসহীন একজন কোচ। এসবের পাশাপাশি যেটা ছিল সবচেয়ে ভয়ের, সেটা হলো প্রচণ্ড বদমেজাজি। কোচদের এমনিতেই বাড়াবাড়ি রকমের ইগো থাকে, তবে মরিনহোর ইগোর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা হয় না। ২০১০ থেকে ২০১৩– রিয়ালে প্রথম দফার ওই তিন মৌসুমে অনেক বড় বড় তারকা খেলোয়াড়ের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন তিনি। তাঁর সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কিছু করতে পারতেন না, সেটা যত বড় তারকাই হোন না কেন। এখানেই মরিনহোর পরিবর্তনটা এসেছে। এখন তিনি কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেন না, ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করেন।
 
দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের অফিসিয়াল চ্যানেলে তাঁর দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সেটা ফুটে উঠেছে, ‘কাজের সংস্কৃতি তৈরি, দায়িত্বশীলতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এমন কিছু, যা আমি ভালো জানি, তা হলো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কাজ করার সম্মান ও দায়িত্বশীলতা। এই ধারণাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। বিষয়টা রিয়াল মাদ্রিদে কাজ করা নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কাজ করা। এই উদ্দেশ্যচালিত মনোভাব নিয়েই আমি এখানে এসেছি।’ রিয়ালের ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবাসে এরই মধ্যে খেলোয়াড়রা কোচের এই মনোভাব অনুধাবন করেছেন।

তাই বলে মাঠে কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। রিয়ালে তাঁর দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুশীলনের প্রথম সপ্তাহে তিন দিন ডাবল সেশন হয়েছে। প্রথম সেশন শুরু হতো সকাল ১০টায়, তবে খেলোয়াড়রা অনুশীলন শুরুর দুই ঘণ্টা আগে ভালদেবেবাসে চলে আসতেন। মরিনহোর ট্রেনিং সেশন খুব লম্বা হয় না, তবে খুবই তীব্র হয়, সেখানে কোনো ঢিলেমি চলে না। 

তাঁর এই পরিবর্তনের বিষয়ে বছরখানেক আগে উয়েফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছিলেন, ‘অতীতে আমি নিজেকে নিয়ে বেশি ভাবতাম। আমি ভীষণ আত্মকেন্দ্রিক ছিলাম। তবে এখন আমি নিজেকে পরার্থবাদী দর্শনে পরিবর্তিত করেছি। আমি ভেবে দেখলাম, ফুটবলে আমি তো অন্যকে সাহায্য করতে এসেছি। আমি এখানে আছি আমার খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে।’ 

তিনি যোগ করেন, ‘আমি এখন ক্লাব নিয়ে বেশি ভাবি, সমর্থকদের আনন্দে বেশি চিন্তা করি।’ কার্লো আনচেলত্তির সোনালি সময়ের পর গত দুই বছর ভীষণ বাজে কেটেছে রিয়ালের। কোনো ট্রফি জেতা হয়নি, সেসঙ্গে বদল হয়েছে দুজন ম্যানেজারও। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ঘরের ছেলে জাবি আলোনসোকে এনেছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। কিন্তু মৌসুমই শেষ করতে পারেননি তিনি। এরপর আরেক ঘরের ছেলে আলভারো আরবেলোয়াও টিকতে পারেননি। মরিনহো কি পারবেন সুদিন ফেরাতে?

আরও পড়ুন

×