ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জমকালো আয়োজনে মোহামেডানের দলবদল

জমকালো আয়োজনে মোহামেডানের দলবদল
×

ছবি- সমকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫০

ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ফুটবলারদের বাফুফেতে যাত্রা। ব্যান্ড পার্টির বাদ্য বাজনায় মুখরিত মতিঝিল এলাকা। নতুন মৌসুমের ফুটবলার নিবন্ধন নিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আঙিনায় উৎসবমুখর পরিবেশ। সাবেক থেকে বর্তমান ফুটবলারদের পদচারণে মুখরিত মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। এমনই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদল শেষ করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দলবদলে যেখানে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনীর মতো বড় দলগুলো পারেনি ঘর গোছাতে, সেখানে সাদা-কালো শিবিরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩৩ ফুটবলারকে নিবন্ধন করেছে। দলবদলের দিনেই ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্লাব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ফুটবলাররা। ক্লাব প্রাঙ্গণে হওয়া অনুষ্ঠানে মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ বুলু (এমপি), পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং নতুন চুক্তিবদ্ধ প্রায় সব খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েকটি বছরে অনেকটা নীরবেই দলবদল করে আসছিল মোহামেডান। মাঝারি মানের দল নিয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল ক্লাবটি। গত মৌসুমে পারেনি সেটা ধরে রাখতে। আগামী মৌসুমের জন্য বেশ আটঘাট বেঁধে নামে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। এক বসুন্ধরা কিংস থেকে আনে আট ফুটবলার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুক্তি করে কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর সঙ্গে। দল নিবন্ধন করার আগে ক্লাব আঙিনায় হওয়া অনুষ্ঠানে জিকো নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেন, ‘আসলে মোহামেডান ক্লাবে এসে খুব ভালো লাগছে। এই ক্লাবে খেলার কথা ছিল আরও অনেক আগে, যখন অনূর্ধ্ব-১৯ এ খেলি। বসুন্ধরায় ছিলাম তাই আসা হয়নি। এবার বাবু (আমিরুল ইসলাম) ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয় শুরু থেকে। প্রথম চুক্তি আমার সঙ্গেই হতো, দুর্ভাগ্য যে আমি প্রথম দিকে সাইন করতে পারিনি। মোহামেডান ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। মাঠে যদি সবাই এক হয়ে খেলতে পারি, আশা করি ভালো কিছু হবে। আমরা মাঠেই প্রমাণ দিতে চাই এবং মোহামেডানের ঐতিহ্য যেন ধরে রাখতে পারি, সবাই সেই দোয়া করবেন। আমরা এই মৌসুমে ট্রেবল জিততে চাই।’ 

গত মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। ক্লাবটির হয়ে জিতেছিলেন সব শিরোপা। এবার মোহামেডানে যোগ দিয়ে একই লক্ষ্য স্থির করেছেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে জেতান চান সব ট্রফি, ‘মোহামেডানের মতো ক্লাবে আসতে পেরে অবশ্যই ভালো লাগতেছে। কারণ ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব, সবাই জানে এটা। তারা আমাদের যে প্রত্যাশাটা নিয়ে এবার দলে নিছে, অবশ্যই তাদের আশা পূরণ করার চেষ্টা করব। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে আমাদের টিম অনেক ব্যালান্স। আশা করি, সবগুলো শিরোপা আমরা জিততে পারব।’ বসুন্ধরার মতো ক্লাব ছাড়লেও আফসোস নেই এ ফরোয়ার্ডের, ‘আপনি যদি প্রফেশনালের দিকে চিন্তা করেন, তাহলে আমাদের এটা হবেই। কারণ আমরা আজকে এই ক্লাবে আছি, কালকে ওই ক্লাবে– এ রকম করেই আমাদের জীবন চলে। আর এটা মনে করেন যে সবসময়, বিশ্বের সব জায়গায় হবে। কারণ আপনি একটি ক্লাবে যতদিন  থাকবেন, মায়া থাকবেই, বাট এটা আপনার ফেলে আবার সামনের দিকে এগোতে হবে। বসুন্ধরাতে যা করেছি, সেটা এখন অতীত। এখন আমরা নতুন করে আবার ভাবছি। নতুন করে আমরা ক্লাবকে কীভাবে ভালো কিছু দেওয়া যায়, এটাই আমাদের মূল টার্গেট।’

মোহামেডানের নিবন্ধিত ফুটবলার

গোলরক্ষক: আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন, আহসান হাবিব বিপু, ইসমাইল হোসেন মাহিন। ডিফেন্ডার: রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, ইসমাইল হোসেন, আজিজুল হক অনন্ত, টনি আগাবাজি, রিমন হোসেন, শাহিন আহমেদ, হাফিজুর রহমান বাবু। মিডফিল্ডার: সোহেল রানা, মিনহাজ আবেদীন বাল্লু, মেহেদি হাসান রয়েল, রহিম উদ্দিন, জুয়েল মিয়া, রাজু আহমেদ, মুজিবুর রহমান জনি, শফিউল হোসেন, আমির হাকিম বাপ্পি, কামাল মৃধা, মেহেদি হাসান, আরিফ হোসেন, মোজাফফর মোজাফফরভ, শাহরিয়ার ইমন। ফরোয়ার্ড: সুলেমান দিয়াবাতে, সৌরভ দেওয়ান, ইমানুয়েল সানডে, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও জয় আহমেদ। 

আরও পড়ুন

×