ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

তালাবদ্ধ গ্যারেজে রক্তাক্ত লাশ, ভাঙা লকার ঘিরে রহস্য

তালাবদ্ধ গ্যারেজে রক্তাক্ত লাশ, ভাঙা লকার ঘিরে রহস্য
×

ছবি-সমকাল

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫৭

রংপুর নগরের তাজহাট আনসারির মোড় এলাকায় তালাবদ্ধ একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬৫) নামের এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মাথার পেছনে আঘাতের চারটি চিহ্ন রয়েছে। গ্যারেজের ভেতরে একটি লকারও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো গ্যারেজটি খোলা না থাকায় আশপাশের দোকানদারদের বিষয়টি সন্দেহ হয়। সকাল ৯টার দিকে তাঁদের একজন গ্যারেজের শাটারের ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাইরে থেকে ঝুলতে থাকা তালা ভেঙে গ্যারেজে প্রবেশ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্যারেজের ভেতর থেকে আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আব্দুর রহমান ওই গ্যারেজের মালিক। তাঁর নিজের ১৫ থেকে ১৬টি রিকশা ছিল। সেগুলো ভাড়ায় চালানো হতো। তিনি গ্যারেজেই রাতযাপন করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাতে গ্যারেজটির শাটার নামানো ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থেকে অস্বাভাবিক কোনো কিছু বোঝা যায়নি। গ্যারেজসংলগ্ন বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরার সময় গ্যারেজটি বন্ধ দেখেছেন। সকালে বাইরে চিৎকার শুনে বের হয়ে তিনি জানতে পারেন, গ্যারেজের ভেতরে আব্দুর রহমানের লাশ পড়ে আছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে তাজহাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মেঝেতে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ পড়ে ছিল। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতর থেকে আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চারটি চিহ্ন রয়েছে। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ওসি আরও বলেন, গ্যারেজের ভেতরে একটি লকার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। লকারটি কেন ভাঙা হয়েছে, সেখানে টাকা বা মূল্যবান কোনো জিনিস ছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি। হত্যার সঙ্গে লকার ভাঙার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুর রহমানের প্রথম দুই স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেন। পরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই তিন স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বিচ্ছেদ হয়। প্রথম দুই স্ত্রীর ঘরে তাঁর চার সন্তান রয়েছে। তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করেন।

আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘আমার বাবাকে কারা, কেন হত্যা করেছে, তা বুঝতে পারছি না। হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে পুলিশকে। লাশ নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে থানায় মামলা করব।’

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×