কোচ হয়ে জর্ডান যাচ্ছেন টিটু!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৬
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের জন্য কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ নারী দল। জর্ডানে অনুষ্ঠেয় বাছাইপর্বে হেড কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে ছোটনেরই যাওয়ার কথা। তবে গত কয়েক মাস দলকে অনুশীলন করানো ছোটন জর্ডান সফরের দলে হেড কোচ হিসেবে যাচ্ছেন না। বাফুফে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুকে করা হয়েছে প্রধান কোচ। ছোটনকে করা হয়েছে তাঁর সহকারী। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ দেশ ছাড়ার কথা নারী দলটির।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের বেশির ভাগ সাফল্য এসেছে ছোটনের হাত ধরে। ২০২২ সালে প্রথম সাফের শিরোপা এসেছে তাঁর অধীনে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরুতেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। পরে অবশ্য এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি, ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মূলত একজন কোচ এবং তিনি প্রো লাইসেন্সধারী। ফেডারেশন তাঁকে বেশি ভালো মনে করায় দায়িত্ব দিয়েছে।’
গত মাসে রাজশাহী স্টারসের কোচ হয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন ছোটন। সেই সময় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন টিটু। কাজের সময় কোচিং স্টাফ মিরোনার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাঁর। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিরোনাকে শোকজ করে ফেডারেশন। এই দলের সঙ্গে থাকলেও মিরোনাকে জর্ডান সফরে বাদ রেখেছে ফেডারেশন। এর কারণ সম্পর্কে কিরণ বলেন, ‘মিরোনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত অবস্থায় তাঁকে দলের সফরে নেওয়া হচ্ছে না।’
সাবেক জাতীয় ফুটবলার মিরোনা কয়েক বছর ধরে নারী ফুটবল দলের সঙ্গে রয়েছেন। ছোটন ও অন্য কোচের সঙ্গে কাজের সময় মনোমালিন্য বা মতানৈক্য দেখা যায়নি। সাইফুল বারী টিটু মাত্র সপ্তাহ দুয়েক অনুশীলন করিয়ে দূরত্ব তৈরি করেছেন। টিটুর সঙ্গে কোচিং করেছেন বা ফুটবলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতে, কোচিং ক্লাস কিংবা অনুশীলনের সময় অধীনদের খানিকটা তাচ্ছিল্য করাই তাঁর স্বভাব। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নিয়েও মিরোনা ও অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। অথচ তাঁকেই ছোটনের বদলে হেড কোচ করে জর্ডান পাঠানো হচ্ছে। টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পেছনে বাফুফের মোটা অঙ্কের ব্যয় হয়। এর বিপরীতে প্রাপ্তির প্রশ্ন ফুটবল অঙ্গনে জোরোশোরে থাকলেও বাফুফের সেদিকে খেয়াল নেই।
সিনিয়র নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠন সাফ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দিয়েছিল। বাফুফে সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ পায়নি। অথচ সেই অভিযুক্ত নওমিকে জাপানে এশিয়ান গেমসের টিম ম্যানেজারকে করে আবার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলা অবস্থায় মিরোনা দল থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। আর অভিযুক্ত নওমি একের পর এক সফর করছেন। এই দ্বৈতনীতি নিয়ে প্রশ্ন করলে কিরণের ব্যাখ্যা, ‘নওমি ও মিরোনার বিষয়টি ভিন্ন। নওমির সঙ্গে দলের কারও সমস্যা হয়নি। আর মিরোনাকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন রয়েছে। তাই দুই রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
- বিষয় :
- বাফুফে
- গোলাম রব্বানী ছোটন
- সাইফুল বারী টিটু