ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গেমস ভিলেজে জায়গা নেই

প্রমোদতরীতে থাকবেন অ্যাথলেটরা

প্রমোদতরীতে থাকবেন অ্যাথলেটরা
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:০৪

ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা মিলে প্রথমে সংখ্যাটা ছিল প্রায় ১৫ হাজার। পরে এটা হয় ১৭ হাজারের বেশি। এতে আবাসন সংকটে পড়ে এশিয়ান গেমসের আয়োজক জাপান। আইচি-নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞে অ্যাথলেটদের আবাসনের জন্য গেমস ভিলেজে জায়গা না থাকায় নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা একটি ক্রুজ শিপ (প্রমোদতরী) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। আর এই প্রমোদতরীতে থাকবেন বাংলাদেশের আট ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তারা। 

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.), ‘নাগোয়ায় আবাসন সংকট প্রকট। তাই আমাদের আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস এবং উশু দল থাকবে প্রমোদতরীতে। বাকিরা বিভিন্ন হোটেলে থাকবেন।’

২০তম এশিয়ান গেমসে ৪৫টি দেশের ১১ হাজারের বেশি খেলোয়াড় অংশ নেবেন। গেমসে বাংলাদেশ ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা মিলিয়ে সংখ্যাটা ২৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯০ এবং নারী ক্রীড়াবিদ ৯৭ জন। অনেক ডিসিপ্লিনে কোচের পরিবর্তে ফেডারেশনের কর্মকর্তার নাম দেওয়া হয়েছে এশিয়ান গেমসে। এটা নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে বিওএর কর্মকর্তাদের। নিজেদের অসহায়ত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন বিওএর সহসভাপতি ইমরোজ, ‘আমাদের জন্য এটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। সামনে যেই খেলাগুলো আছে, আমরা সেগুলো মনিটর করব। সবসময় সবকিছু কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় না। সবগুলো ফেডারেশন  আছে, তারা যৌক্তিক উত্তর দিতে পারবে। আমরা অন্ততপক্ষে আপনাকে এতটুকু আশ্বস্ত করতে পারি ক্যালকুলেটরের ক্যালকুলেশন অনুযায়ী।  যতজন নেওয়ার কথা, তার থেকে অন্ততপক্ষে ১৬ থেকে ১৭ জন আমরা কম নিচ্ছি।’

গত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পদক জিতেছিল ক্রিকেট থেকে। এবার আরও শক্তিশালী দল পাঠাচ্ছে বোর্ড। তাই এই পুরুষ ও নারী ক্রিকেট থেকে পদকের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। শুধু ক্রিকেট নয়, আরচারি, শুটিং এবং কাবাডিতেও আছে পদকের আশা। ‘আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক। কিন্তু বাস্তবতা আপনাকে মানতেই হবে। তার পরও এবার বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনে আমাদের পদকের সম্ভাবনা আছে। আরচারিতে আছে ভালো সম্ভাবনা। সর্বশেষ এশিয়ান আরচারিতে আমরা রৌপ্যপদক জিতেছিলাম। শুটিংয়ে ভালো মানের খেলোয়াড় আছেন। কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী শুটার আছেন। কাবাডিতে আমরা অতীতে পদক পেয়েছিলাম। আর ক্রিকেটে তো ভালো সম্ভাবনা আছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি ডিসিপ্লিনে আমাদের সম্ভাবনা আছে।’ 

ক্রিকেট দেশকে স্বর্ণপদক এনে দেওয়ার কথা বলেছেন পুরুষ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ‘এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করায় সবসময়ই একটা আগ্রহ থাকে। আমি মনে করি, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবাই আশা করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভালো করবে এবং আমরা সাধারণত খুব বেশি পদক পাই না।  আমি আশাবাদী আমরা ভালো করব। এখানে আসলে চ্যাম্পিয়ন (স্বর্ণ জয়) হওয়ার চিন্তা করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

এশিয়ান গেমসের এবারের আসরের উদ্বোধনী দিনে মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার মো. আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়ে যাবে মাঠের লড়াই। ১৪ সেপ্টেম্বর মেয়েদের ফুটবল এবং ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হবে মেয়েদের ক্রিকেট। মেয়েদের ফুটবল হবে ওসাকায় এবং সাঁতার হবে টোকিওতে। বাকি ডিসিপ্লিনের খেলা হবে নাগোয়াতে। গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সদস্য হকিতে। পুরুষ ও নারী ১৮ জন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে কর্মকর্তা মিলিয়ে সংখ্যাটা ৪৫ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সদস্য ক্রিকেটে ৪১ জন।

আরও পড়ুন

×