নতুন দল নিয়েও পাকিস্তানের একই হাল
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৫
কোচ বদলেছে, দলে এসেছে একঝাঁক নতুন মুখ, তবু বদলায়নি পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের চিত্র। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে নতুন চেহারার পাকিস্তান প্রথম দিনেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৩ রানে। এজবাস্টনে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৩৩.৫ ওভারের মধ্যেই তাদের অলআউট করে দিয়েছে ইংল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। দলে যোগ করা হয় পাঁচ নতুন ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে তিনজনের এ ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক হয়েছে। এত পরিবর্তনের পরও মাঠের চিত্রে অবশ্য পুরোনো সমস্যাই ফিরে এসেছে।
ইংল্যান্ডের পেসারদের সামনে শুরু থেকেই অসহায় দেখিয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটিং। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। দলীয় ৪৮ রানেই পড়ে যায় পাঁচ উইকেট। ১১ ব্যাটারের মধ্যে তিনজন ব্যাটারই পেরিয়েছেন দুই অঙ্কের ঘর।
দেড় বছর পর টেস্ট দলে ফেরা সাইম আইয়ুবও পারেননি শুরুটা ভালো করতে। ওলি রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তৃতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন তিনি। এরপর আজান আওয়াইস, আবদুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক শান মাসুদও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। পরে জশ টংয়ের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন বাবর আজম।
পাকিস্তানের ধস থামানোর চেষ্টা করেন সৌদ শাকিল। ৪৭ বলে সাতটি চারে ৪৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। লর্ডস টেস্টেও দলের হয়ে লড়াই করে ৯৭ রান করেছিলেন তিনি। তবে টংয়ের বলে বোল্ড হয়ে শাকিল ফিরলে পাকিস্তানের ইনিংসও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী মিলে ২৬ রানের জুটি গড়েন, যা ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। তাদের প্রতিরোধেই কোনোভাবে ১৩৩ পর্যন্ত পৌঁছায় পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের হয়ে জশ টং ৪২ রানে চারটি, ওলি রবিনসন ১৫ রানে তিনটি এবং জোফরা আর্চার ২৫ রানে তিনটি উইকেট নেন। রবিনসনের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ। সাইম আইয়ুবকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
এ নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো পাকিস্তান। এর মধ্যে টানা তিন ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ১৫০ রানেরও কম। হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর তৃতীয় টেস্টেও সেই একই ব্যাটিং দুর্বলতা তাদের ভোগাল।
ম্যাচের আগে বাবর আজম বলেছিলেন, মাঠের বাইরের আলোচনা ভুলে দলের মনোযোগ এখন ক্রিকেটেই। কিন্তু এজবাস্টনের প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট, কোচ-খেলোয়াড় বদলালেও পাকিস্তানের পুরোনো ব্যাটিং সমস্যার সমাধান হয়নি।