স্থায়ী ব্যাটিং কোচ চান ডমিঙ্গো
রাসেল ডমিঙ্গো - ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১:৫০
ওটিস গিবসন ও রায়ান কুককে নিয়ে রাসেল ডমিঙ্গোর কোচিং প্যানেল। নিল ম্যাকেঞ্জি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর শূন্য পড়ে আছে ব্যাটিং কোচের পদ। মাঝে শ্রীলঙ্কা সফর সামনে রেখে নিউজিল্যান্ডের ক্রেগ ম্যাকমিলানকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া হলেও বাবার মৃত্যুতে তিনিও পদত্যাগ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জানুয়ারিতে হোম সিরিজের আগে আবারও আলোচনায় ব্যাটিং কোচের নিয়োগ। খণ্ডকালীন ও স্থায়ী দুই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিং কোচের সন্ধান করছে বিসিবি। কিন্তু প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর চাওয়া একজন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ। যিনি কিনা লাল ও সাদা বলে ক্রিকেটারদের নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিজের মতামতও দিয়েছেন তিনি।
স্থায়ী ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেওয়ার পেছনে যুক্তি আছে কোচের। একজন কোচের সঙ্গে এক বা দুই বছরের চুক্তি হলে ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময় দেখার সুযোগ পাবেন। কাকে কোথায় উন্নতি করতে হবে, তা নিয়ে কাজ করতে পারবেন নিবিড়ভাবে। খণ্ডকালীন কোচের ক্ষেত্রে সে দায়বদ্ধতা থাকে না। খেলোয়াড়দের খ্যাপ খেলার মতো সিরিজ শেষ করে চলে যাবেন খণ্ডকালীন কোচও। এ ছাড়া সিরিজ চলাকালে ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কাজ করার সুযোগও সেভাবে থাকে না। পরিশীলনের কাজগুলো করতে হয় কন্ডিশনিং ক্যাম্পে। স্থায়ী কোচ হলে ব্যাটসম্যানরাও মন খুলে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। এসব ভেবেই দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী ব্যাটিং কোচ চান ডমিঙ্গো, 'যে দলের জন্য একাগ্রতা দেখাবে, নিবিড়ভাবে কাজ করবে, এমন একজন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ দরকার। যেটা নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। জানুয়ারির সিরিজেই আশা করি একজনকে পাব।'
তিন সংস্করণে জাতীয় দলের শেষ স্থায়ী কোচ ছিলেন থিলান সামারাভিরা। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি বিসিবি। তিনিই ছিলেন টাইগারদের তিন সংস্করণে স্থায়ী ব্যাটিং কোচ। গ্যারি কারস্টেনের পরামর্শে দক্ষিণ আফ্রিকার নিল ম্যাকেঞ্জিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সাদা বলের জন্য দিনের হিসাবে। প্রথম মেয়াদে দারুণ কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন প্রোটিয়া এ কোচ। ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয় তার। তবে পারিবারিক কারণে স্থানীয় চাকরি নিতে রাজি ছিলেন না তিনি। তার ওপর করোনাকালে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই তিন সংস্করণের জন্য একজন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ চান রাসেল।
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপ চলাকালে এ নিয়ে বেশ কাজ হয়েছে ভেতরে ভেতরে। জেমি সিডন্সের নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল ব্যাটিং কোচ হিসেবে। তাতে রাজি হননি প্রধান কোচ রাসেল। তিনি চেয়েছেন, মিলেমিশে কাজ করবেন এমন একজনকে। এমন একজনকে খুঁজে পেতে এজেন্টের মাধ্যমে ভেতরে ভেতরে খোঁজ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কোচ। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে ব্যাটিং কোচ হিসেবে একজন ইংলিশকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
এ ব্যাপারে বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'বেশ ক'জন কোচের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এখনও কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে হয়ে যেতে পারে।' চূড়ান্ত না হলেও ব্যাটিং কোচের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।