'সুযোগ পেলে বাংলাদেশে কাজ করব'
ছবি: ফাইল
...
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:০৮
ওটিস গিবসন বেশিরভাগ সময় জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ ছিলেন। ইংল্যান্ড দলে ছিলেন বোলিং কোচ। সেদিক থেকে দেখলে বিশাল কোচিং অভিজ্ঞতা তার। এই ক্যারিবিয়ান বিপিএলে কাজ করছেন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ হিসেবে। সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে চান তিনি। চট্টগ্রামে কুমিল্লার এই কোচের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন আলী সেকান্দার
সমকাল :বিপিএলের খেলা খুব কাছ থেকে দেখছেন। এই টুর্নামেন্ট কি ক্রিকেটারদের বিকশিত হওয়ার ভালো মঞ্চ মনে করেন?
গিবসন :বিপিএল খুবই ভালো টি২০ টুর্নামেন্ট। মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলা হয়। প্রতি বছরই এখান থেকে কিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার পাওয়া যেতে পারে। মেধাবী ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশের বড় মঞ্চ এ টুর্নামেন্ট। কয়েক বছরের মধ্যে দেখতে পাবেন, বিপিএলে খেলা তরুণরা দেশের ক্রিকেটে লিড দেবে। পেসার মেহেদী হাসান রানার কথা বলতে পারি। সে প্রতিভাবান একজন বোলার। তার অ্যাকশন ভালো। অনেক উইকেট পাচ্ছে সে। আমি মনে করি, তার পেছনে বিনিয়োগ করা হলে সে ভালো করবে। আরও কিছু তরুণ বোলার আছে, যারা ভালো মানের। আমার দলের সাব্বির অনেক দিন ধরেই তো খেলছে। এখন তার ধারাবাহিক হওয়ার সময়। তাদের মতো ক্রিকেটাররা ধারাবাহিক হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
সমকাল :বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ছিলেন আপনি। আর আপনার দলকে হারিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ?
গিবসন :সত্যি বলতে, ওই দিন আমরা ভালো খেলিনি। বাংলাদেশের কাছে হেরে গেছি। বিশ্বকাপ সব সময়ই বড় টুর্নামেন্ট। ভালো না খেললে হারতে হবে। যে কোনো দল যে কোনো দলকে হারাতে পারে। আগের বিশ্বকাপগুলো খেয়াল করলে এমন ঘটনা দেখতে পাবেন। নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলে অনেক ছোট দল বড় দলকে হারিয়ে দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ তো ভালো দল। তারা ওয়ানডে ক্রিকেটটা ভালো খেলে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে অলআউট ক্রিকেট খেলেছিল তারা। আমরা সেখানে মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলতে পারিনি।
সমকাল :আপনি গত কয়েক বছর জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিপিএল মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে কোচিং করাতে কেমন লাগছে?
গিবসন :আমার জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে কোচিং করাচ্ছি। কাজটা কঠিন বলব না। তবে আনন্দ পাওয়ার মতো। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচিতির গি বড় হচ্ছে। দ্রুত সব কিছুতে মানিয়ে নিতে হয়। পেছনের ঘটনা খুব দ্রুত ভুলে গিয়ে সামনে তাকাতে হয়। আমার কাছে ভালোই লাগছে।
সমকাল :বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে অত ভালো করতে পারছে না। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে। হোমে মোটামুটি ভালো করছে। আপনি যখন ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ ছিলেন তখন বাংলাদেশ টেস্ট জিতেছিল?
গিবসন :টেস্ট ক্রিকেট খুব কঠিন জায়গায়। পাঁচ দিন খেলতে হয়। প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে খেলা খুব কঠিন। হোমে খেলার কিছু সুবিধা থাকে। সেটা কাজে লাগিয়ে ভালো করা যায়। দেশেই তো সব খেলবে না। বিদেশেও সিরিজ খেলতে হবে। আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডকে টেস্ট হারিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে টেস্ট ম্যাচ জিততে পারে। তবে বিদেশে ভালো খেলে জিততে পারলে কৃতিত্বটা বাড়বে। কীভাবে সেটা করা সম্ভব, এর একটা ফরমুলা আছে। বাংলাদেশকে সেই ফরমুলা অনুযায়ী এগোতে হবে। সেটা করতে পারলে বিদেশেও টেস্ট ম্যাচ জিততে পারবে।
সমকাল :আগামী এক বছর সাকিবকে পাওয়া যাবে না। সাকিবের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে কী করলে ভালো হয়?
গিবসন :বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সাকিবের গুরুত্ব অনেক। তার মতো ক্রিকেটারের ঘাটতি সহজে পূরণ করার নয়। তবে তার রোলটা অন্য কোনো ক্রিকেটারকে নিতে হবে। আমি মনে করি, তামিম এগিয়ে এলে ভালো করবে। সিনিয়রদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
সমকাল :বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের পদ এখন খালি আছে। বিসিবি থেকে কেউ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে অথবা আপনি আগ্রহ দেখিয়েছেন?
গিবসন :সত্যি বলতে, আমাকে কিছু বলা হয়নি। আমি নিজে থেকেও যোগাযোগ করিনি। তবে আমি এখানে উপভোগ করছি। সুযোগ থাকলে আমি এখানে কাজ করতে চাই। আমি তো উন্মুক্তই আছি। বিসিবির আগ্রহ দেখালে আমি সুযোগটা নিতে চেষ্টা করব।
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯
- ওটিস গিবসন
