ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

লবস্টার আন্দোলনে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

লবস্টার আন্দোলনে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প
×

হুমায়ুন কবীর

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:৩২

ভাবেন তো, ঘুমিয়ে আছেন। আর ঠিক সেই সময়ে আপনার ফোনে বসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার ইমেইল দেখছে, প্রয়োজনীয় চিঠির জবাব দিচ্ছে, বিমানের টিকিট বুক করছে– এমনকি আপনার হয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখছে। সিনেমার গল্প নয়; এটাই এখন বাস্তব। এর নাম ওপেনক্ল।

শুরুটা যেভাবে হয়েছিল

অস্ট্রিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সফটওয়্যার প্রকৌশলী পিটার স্টেইনবার্গার ২০২৫ সালের নভেম্বরে ছোট্ট এক প্রকল্প শুরু করেন। নাম দেন ক্লবট।
লক্ষ্য ছিল সহজ। এমন সহকারী তৈরি করা, যা হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে বসেই মানুষের হয়ে কাজ করতে পারবে। তারপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইন্টারনেটে ঝড় বয়ে গেল।

ইতিহাসে রেকর্ড

বিশ্বের এক লাখ ৪৯ হাজারের বেশি প্রযুক্তিবিদ প্রকল্পটিকে তাদের পছন্দের তালিকায় যুক্ত করলেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
    সাত লাখ ৭০ হাজার স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি হয়ে গেল।
    প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ৮০ কোটি টাকার ক্রিপ্টো জালিয়াতি ঘটল।

ওপেনক্ল আদতে কী করে?

সহজ ভাষায় বললে এটি ডিজিটাল সহকর্মী। আপনি মুখে বললেন বা লিখলেন, সে কাজটি করে ফেলল। ইমেইল পড়বে ও জবাব দেবে।
বিমানের টিকিট বুক করবে। ফাইল তৈরি ও সম্পাদনা করবে। কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখবে।
যে কোনো ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়– এটি আপনার নিজের কম্পিউটারে চলে। আপনার কোনো তথ্য বাইরে যায় না। এটি চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, সত্যিকারের কাজ করে।

যখন এআই নিয়ন্ত্রণ হারাল

শুরুতে সবকিছু মসৃণ ছিল না। মেটা সংস্থার নিরাপত্তা গবেষক তাঁর ওপেনক্লকে বললেন ইনবক্স গোছাতে।

এআই এজেন্ট হঠাৎ দ্রুতগতিতে একের পর এক ইমেইল মুছতে শুরু করল। গবেষক থামার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু সে থামল না। শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটে গিয়ে কম্পিউটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন– তখন পুরো ইনবক্স ফাঁকা। ঘটনাটি সারাবিশ্বে প্রযুক্তিবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্বয়ংক্রিয় এআইর আদতে কতটুকু স্বাধীনতা পাওয়া উচিত?

চীনে নিষিদ্ধ

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং ২০২৬ সালের জিটিসি সম্মেলনে বললেন, ওপেনক্ল মানব ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওপেন সোর্স প্রকল্প। এর পরই চীনে শুরু হয় লবস্টার পালন আন্দোলন। কয়েক লাখ গ্রাহক ওপেনক্ল ইনস্টল করতে শুরু করলেন। চীন সরকার সরকারি সব সংস্থায় একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। সব বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি কম্পিউটারে এর ইনস্টল করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

গবেষণা সংস্থা গার্টনার বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশ বড় প্রতিষ্ঠান তাদের সফটওয়্যারে এআই এজেন্ট যুক্ত করবে। যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকিনসি বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই এজেন্ট বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিবছর ২৯ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ মূল্যের কাজ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য কতটা জরুরি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসা– সব ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যে কাজ আগে ১০ জন কর্মী করত, ভবিষ্যতে তা দুই থেকে তিনজন আর কয়েকটি এআই এজেন্ট মিলে করতে পারবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা এ জন্য কতটুকু তৈরি হয়েছি? চ্যাটজিপিটি এসেছিল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। ওপেনক্ল এসেছে, এখন এআই নিজেই কাজ করতে শিখেছে। এটি সুযোগ, আবার ঝুঁকিও।

তবে এটি নিশ্চিত– এই প্রযুক্তির ঢেউ থেকে বিশ্বের কোনো দেশ, কোনো পেশা, কোনো ব্যক্তি আলাদা থাকতে পারবে না। 

আরও পড়ুন

×