ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল জালিয়াতি

কল মার্জিং স্ক্যামের আর্থিক ক্ষতির ফাঁদ

কল মার্জিং স্ক্যামের আর্থিক ক্ষতির ফাঁদ
×

মুস্তাফা তৌহিদ

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৬

ডিজিটাল লেনদেনের চলতি সময়ে আরেকটি নতুন প্রতারণার কৌশলের নাম কল মার্জিং স্ক্যাম। প্রথমে এ পদ্ধতিতে অপচক্র ফোন করে নিজেকে পরিচিত ব্যক্তি বা কোনো সংস্থার প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। 

কিছুক্ষণ পরে আরেকটি কল আসে, যা আসলে ব্যাংকের ওটিপি যাচাই করতে করা হয়। চক্রটি টার্গেটকে দুটি কলে একযোগে যুক্ত বা মার্জ করতে বলে। ফলে ব্যাংকের পাঠানো ওটিপি সরাসরি চক্রের কাছে পৌঁছে যায়। তখন সে সহজেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার নেয়।

সারাবিশ্বে এমন ফোনকলের ভিত্তিতে প্রতারণার সংখ্যার বাড়বাড়ন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, গত দুই বছরে ফোনকলে প্রতারণার ঘটনা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এমন জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেখানে চক্র প্রথমে নিজেদের জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেয়। তারা জানায়, ভুক্তভোগী নাকি আগে ঋণ পরিষেবায় নাম লিখিয়েছিলেন। সে কারণে এখন থেকে নিয়মিত টাকা কেটে নেওয়া হবে। এই সমস্যা সমাধানের নামে তারা ব্যক্তিগত ও ব্যাংক-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুতই অপরাধ সংঘটিত করে।

সারাবিশ্বে বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে এমন প্রতারণা অনেকাংশে বেড়েছে। অপচক্র নিজেদের বিনিয়োগ পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টার্গেটের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে; নিয়মিত ফোনকলে কথা বলে বিশ্বাস স্থাপন করে। অনেকে আবার ফেক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতারণা সফল করতে যোগাযোগ চলে টানা কয়েক মাস। না বুঝে ফাঁদে পা ফেললেই পড়তে হয় আর্থিক ক্ষতির মুখে।

জটিল এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের অনেক ব্যাংক নতুন করে মানোন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে। বিশ্বের অনেক ব্যাংক সন্দেহজনক কল শনাক্ত করে দ্রুত গ্রাহকের কাছে সতর্কবার্তা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চক্রের কল বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 

আরেকটি ডিজিটাল ব্যাংক এমন ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে গ্রাহক ব্যাংকের অ্যাপ খুলেই বুঝতে পারেন যে ফোনটি সত্যিই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করেছে কিনা। কয়েকটি দেশের স্বনামধন্য ব্যাংক ও স্থানীয় টেলিকম সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ফোনে কথা বলার সময় সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সংকেত পেলে ঝটপট সতর্কসংকেত পৌঁছে দেয়।

নিরাপত্তায় যা করবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজ্ঞাত বা সন্দেহ হয় এমন যে কোনো ফোনকলের ভিত্তিতে কখনও পিন নম্বর, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকের তথ্য জানানো উচিত নয়। এর আগে কলটি সন্দেহজনক কিনা, তা ঠিকঠাক যাচাই করা। গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজন হলে সরাসরি আর্থিক সংস্থার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা। সবখানে প্রযুক্তি যতটা উন্নত হচ্ছে, অপচক্র নিত্যনতুন কৌশল তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন

×