ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাইরাল ভিডিওর সংশয়

ভাইরাল ভিডিওর সংশয়
×

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪০

হঠাৎ কোনো ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে। হাজারো মানুষ দেখছে, শেয়ার করছে, মন্তব্য করছে। কেউ বলছেন, ঘটনাটি সত্যি, কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন– ভিডিওটি আসল তো? কয়েক বছর আগেও যে কোনো ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে সংবাদমাধ্যম, প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে এমন ভিডিও তৈরি করা সম্ভব, যেখানে বাস্তবে কেউ যা বলেননি, সেটিও তার মুখ দিয়ে বলা যায়; যে ঘটনা ঘটেনি, সেটিও ক্যামেরায় ধারণ করা ঘটনার মতো মনে হতে পারে। 

অনেকের যে কোনো অ্যাপে মেসেজ এলেই অপেক্ষা না করে নিমেষে ফরোয়ার্ড। বিশ্বে কোথাও বড় কোনো ঘটনা হওয়া মাত্রই মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর এই ভাইরাল উন্মাদনায় কোন তথ্য ঠিক আর কোনটি নকল– তা অনেক সময় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত ২৬ আগস্ট নেপালে হড়পা বান ও ভূমিধসের পর এমনই ঘটনায় বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। 

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভাইরাল হয় অসংখ্য ভিডিও। কিন্তু পরে দেখা যায়, অনেক ভিডিও ছিল পুরোনো, অনেকটি অন্য কোনো সময়ে, অন্য দেশের বন্যার ভিডিওচিত্র। আবার অনেক ভিডিও ছিল এআই দিয়ে বানানো।

সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে

সবার আগে প্রথম কৌশল হলো ভিডিওটি কয়েক দফা পর্যালোচনা করা। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও কয়েকবার দেখলে এর অস্বাভাবিকতা বোঝা যায়। ভিডিওটি কোথায় তোলা হয়েছে, সেখানে কারা রয়েছেন– সবকিছু ঠিকঠাক যাচাই করা উচিত। বিশ্বের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম সেই ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে কিনা, সেটিও যাচাই করা জরুরি। তা ছাড়া এআই জেনারেটেড ছবিতে লেখা বা টেক্সট, কোনো সাইনবোর্ড, পথের নাম, গাড়ির নম্বরপ্লেট, বিজ্ঞাপনের তৈরি ধরন, ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্র্যান্ডের লোগো ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা উচিত। অনেক এআই ভিডিও জেনারেটর তাদের তৈরি ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক বা চিহ্ন ব্যবহার করে। সেসব ক্ষেত্রে ওয়াটারমার্কে কোনো ব্লার রয়েছে কিনা, পিক্সেলেটেড কিনা, রঙের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা বুঝেশুনে নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সারাবিশ্বে এখন যে কারিগরি দক্ষতা তৈরি হয়েছে এআইর কারণে তাতে ভরসা করাই কঠিন কোনটি সত্য, আর কোনটি মিথ্যা। এ ক্ষেত্রে ফেক ছবি বা ভিডিও যাচাই করার প্রয়োজনে বিশেষায়িত কয়েকটি টুল ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে।

জেনারেটিভ মডেল

অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা দেখে সেটি আসল মনে হলেও বাস্তবের সঙ্গে তেমন মিল থাকে না। পুরোটাই এআই দিয়ে তৈরি করা। নেপালের হড়পা বন্যাতে এমন অসংখ্য এআই জেনারেটেড ভিডিও এখনও ভাইরাল হচ্ছে।

ফেক ভিডিও মানেই এআই নয়

অনেকের ধারণা, এআই দিয়ে ভিডিও তৈরি মানেই তা ফেক, আসলে এমনটা নয়। অনেক সময়ে কোনো ভিডিও এডিট করে, ভুল সময় বা ভুল টাইমলাইন ব্যবহার করে সেটি আপলোড করা হয়। হঠাৎ দেখলে সেই ভিডিও বাস্তব, নাকি তৈরি করা– তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সত্যি ঘটনার ভিডিও কিন্তু ক্যাপশনে ভুল সময় বা ভুল জায়গা লিখে শেয়ার করেন অনেকে। এটি ভুল চর্চা।

পরীক্ষিত তিন কৌশল

রিয়েলিটি ডিফেন্ডার অ্যাপে ভিডিও, ছবি ও অডিও– তিন ধরনের কনটেন্টে এআই নির্মিত বা ডিপফেক কিনা, তা শনাক্ত করা যায়।

স্মার্ট এআই ও ডিপফেক ডিটেক্টরে এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপ ও ছবি স্ক্যান করে সেসব ফেক কিনা, তার সত্যটা যাচাই করতে পারেন। জেমিনিতে অপেক্ষাকৃত ছোট ভিডিও আপলোড করে সেখানে SynthID-এর মতো কোনো ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক রয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করা যায়। তবে এটি মূলত সেই ধরনের এআই টুল দিয়ে তৈরি ভিডিওর ক্ষেত্রে কার্যকর, যেসব SynthID-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে। হাইভ মডারেশন নামে আরেকটি ওয়েবসাইট আছে, যা বিশেষ এআই জেনারেটেড ও ডিপফেক কনটেন্ট ডিটেকশন করার মতো পারদর্শী সাইট। হাইভের এআই ও ডিপফেক শনাক্ত করার বিশেষ প্রযুক্তি যে কোনো ছবি, ভিডিও ও অডিওর মধ্যে কোনটি এআই দিয়ে তৈরি বা ফেক, তা দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।

রিভার্স ইমেজ

গুগলের এই ফিচারের সহায়তায় কোনো ছবি কোথা থেকে এসেছে, আগে কোথাও প্রকাশিত হয়েছে কিনা বা কবে প্রকাশিত হয়েছে এবং ছবির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য সব তথ্য খুঁজে বের করা যায়।

ডিপওয়্যার স্ক্যানার

আসল ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এই স্ক্যানার ওয়েব টুল ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞরা। এখানে কোনো ভিডিও বা লিঙ্ক শেয়ার করলে তা আসল কিনা, তা দ্রুত স্ক্যান করা যায়।

আরও পড়ুন

×