ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

‘টেলিযোগাযোগ সেবার কর প্রত্যাহারে আবেদন জানাবে মন্ত্রণালয়’

‘টেলিযোগাযোগ সেবার কর প্রত্যাহারে আবেদন জানাবে মন্ত্রণালয়’
×

মোস্তাফা জব্বার- ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ০৯:৫৩

আগামী ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর নতুন করে আরোপিত ৫ শতাংশ সম্পূরক কর প্রত্যাহারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় আবেদন জানাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। রোববার সমকালকে এ কথা জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মোবাইল অপারেটরদের উপর আরোপিত দুই শতাংশ নূন্যতম কর হার পুর্নবিবেচনার জন্য তিনি বাজেট প্রস্তাবের আগেই চিঠি দিয়েছিলেন।

এ দিকে বাজেট পাশের আগেই কেন বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক আদায় করছে তা জানতে চেয়ে মোবাইল অপারেটর বিটিআরসি’র চিঠি দেওয়া নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশের দিন থেকেই আরোপিত সম্পূরক শুল্ক কার্যকরে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই কর আদায় করা হচ্ছে। অর্থ বিলের ৮৮ পৃষ্ঠায় কোন দফা কখন থেকে কার্যকর হবে তাও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবার উপর আরোপিত পরোক্ষ কর বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকেই কার্যকরের যে বিধান রয়েছে তা সংশোধন করা উচিত।

বর্ধিত কর নিয়ে মন্ত্রীর অবস্থান: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সরকারের অগ্রাধিকার। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত, বিশেষ করে ইন্টারনেটের ব্যবহারই মুখ্য। এ ছাড়া করোনা মহামারির সময়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। জীবন যাপন, যোগাযোগ মূলত, ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছে। বরং এখন অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থানের মতই ইন্টারনেটও একটি মৌলিক অধিকার। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এ মুহুর্তে মোবাইল টেলিযোগাযোগে গ্রাহক সেবার উপর নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পুরক কর আরোপ করার পক্ষে নয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। বরং যুক্তিযুক্ত এটাই- ইন্টারনেটের দাম কমলে ব্যবহার অনেক বেশি বাড়বে, রাজস্বও বেশি আসবে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধামন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনিও মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবায় সম্পূরক কর বৃদ্ধির বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বর্ধিত কর প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়ে এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্ধিক কর প্রত্যাহারে বিষয়ে মোবাইল অপারেটররাও অনুরোধ জানিয়েছে। জনস্বার্থের বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানকিভাবে আবেদন জানাবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট প্রস্তাবের আগেই তিনি মোবাইল অপারেটরদের আয়ের উপর থেকে দুই শতাংশ বর্ধিত কর পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণায়ের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। কারণ মোবাইল টেলিযোগাযোগ এখন অত্যন্ত জরুরি সেবা। এ সেবার উপর নূন্যতম কর থাকার যুক্তি নেই। তিনি এই নূন্যতম কর পুনর্বিচেনার বিষয় নিয়ে এখনও সচেষ্ট বলে জানান।

বিটিআরসি’র চিঠি নিয়ে বিতর্ক: আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পাস হওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাড়তি শুল্ক আরোপ করার কারণ জানতে চেয়ে মোবাইল অপারেটরদের চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম শনিবার অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সংক্রান্ত ই-মেইল পাঠান। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বাজেট পাসের আগেই মোবাইল অপারেটরগুলো কর্তৃক এই শুল্ক আদায় শুরুর বিষয়টি বিটিআরসির নজরে এসেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বিষয়টি প্রমাণিত হলে 'নজিরবিহীন' কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অ্যামটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, মোবাইল অপারেটররা সরকারের বিধি অনুযায়ীই কাজ করেছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার দিনই এসআরও জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থবিলের ৮৮ পাতায় কোন কোন দফা অবিলম্বে কার্যকর হবে, তা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৮০ নম্বর দফাও আছে। এই দফার অন্তর্ভুক্ত মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবাও, এটা নতুন নয়।'

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ সমকালকে বলেন, বর্তমানে যে আইন তা অনুযায়ী শুধুমাত্র আয়করের মত প্রত্যক্ষ কর ছাড়া অন্যান্য যেসব পরোক্ষ কর আছে তা জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকেই কার্যকর হয়ে যায়। এটা এ জন্য করা হয়েছে যে, বাজেটে কর হার পরিবর্তনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা যেন কোন অনৈতিক কৌশল গ্রহণের সুযোগ না পায়। যেমন- গাড়ি আমদানিকরাকরা কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দেখে সব আমদানি চুক্তির তারিখ বাজেট পাশের এগর তারিখ দেখানোর কৌশল নিতে পারে। এই আইনটি ব্রিটিশ আমল থেকেই কার্যকর। মাঝখানে একবার সংশোধন করা হয়েছিল। পরে আবার সংশোধন করে পূর্বের স্থানে চলে যাওয়া হয়। এ কারণে এখন বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকেই সম্পূরক কর কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে যদি প্রস্তাবিত কর হার সংশোধন করা হয় তাহলে বর্ধিতহারে আদায়কৃত করের অর্থ ফেরত দেওয়ারও বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত- সেবা খাতের ক্ষেত্রে এই আইন সংশোধন করে বাজেট পাশের দিন থেকে পরিবর্তিত কর হার কার্যকর করা। কারণ, গাড়ি আমদানিকারক পূর্বের তারিখ দেখানোর কৌশল নিতে পারে, কিন্তু মোবাইল টেলিফোনে কথা বলা একজন গ্রাহকের পক্ষে সে ধরনের ফাকির কৌশল নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। এ কারণে সেবার ক্ষেত্রে পরোক্ষ কর বাড়ানো হলে তা বাজেট পাশের দিন থেকে কার্যকর হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

×