ছবির ট্রেন্ডে লুকানো যত অজানা উদ্দেশ্য
আইসিটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিজেদের ছবির রূপান্তর করার জোয়ারে এখনও নিমগ্ন কয়েক কোটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। এর আগে জনপ্রিয় গিবলি অ্যানিমেশনের আদলে নিজের সেলফি বদলেছে নিমেষে, আকর্ষণীয় দৃষ্টিতে।
ঠুনকো এই বিনোদনের নেপথ্যে কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি।
কিছুদিন আগে বিশেষ প্রতিবেদনে এআই চ্যাটবট বা অ্যাপে ছবি আপলোড করার ক্ষতিকর দিকের কথা আগেই আলোচনায় এসেছে। বলা হয়, কেউ এআইকে শুধু তাঁর ছবিই দিচ্ছেন না; বরং বড় ধরনের ব্যক্তিগত ডেটা শেয়ার করছেন। স্মার্ট ডিভাইসে বা ক্যামেরায় ধারণ করা প্রতিটি ছবির নেপথ্যে কিছু অদৃশ্য তথ্য রয়ে যায়।
সাইবার ভাষায় যার নাম মেটা ডেটা। যখন কোনো এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করছেন, তখন সেই ছবি কখন, কোন ডিভাইসে তোলা হয়েছে, তার লোকেশন কী– সবটাই চলে যাচ্ছে এআই সংস্থার দখলে। সামনে বিপদ আসছে। যেহেতু মুখমণ্ডল আপনার পরিচিতির অনন্য বৈশিষ্ট্য, তাই ছবির মাধ্যমে যে কাউকে শনাক্ত করা খুব সহজ হয়ে যায়।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানত এআই সিস্টেম তিন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। প্রথমত, টাইপ করা টেক্সট ও আপলোড করা ফাইল বা ছবি। দ্বিতীয়ত, সেশন ব্যাকগ্রাউন্ডের তথ্য, যেমন– আইপি অ্যাড্রেস ও ডিভাইসের ধরন। তৃতীয়ত, ছবি আপলোড করার পর চ্যাটবটের দেওয়া বেশ কিছু তথ্য বা ফাইল সার্ভারে জমা পড়ে। ছবিটি ডিলিট করলেই ব্যস কাজ হয়ে গেছে– এমনটি ভাবা বড্ড ভুল। ছবি কত দিন ওই সংস্থার সার্ভারে থেকে যাবে, সেটি নির্ভর করছে সংস্থার নিজস্ব তথ্য সংরক্ষণ নীতির (ডেটা রিটেনশন) ওপর। চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হওয়ার পরও ওপেনএআই প্ল্যাটফর্মের মূল সার্ভারে পরের ৩০ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। কেউ যদি এ মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে অনুমতি দেন, সে ক্ষেত্রে নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় সেই তথ্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থেকে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ছবি আপলোড করার মানে এই নয়, আপনার ছবি এখনই লিক বা অপব্যবহার হবে। শঙ্কার কারণ হবে আগামীতে।
নিয়মিত এআই টুলের এসব ব্যবহার ক্রমে আপনার ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করছে। সরাসরি আপলোড করা ছবি ও কাজের ধরন বুঝে এআই সংস্থা যে কারও অভ্যাস, আগ্রহ ও পেশার বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করে।
এরই মধ্যে এসব এআই টুল আমাদের আচরণ, ইমেইল, অনলাইন শপিং ও ব্যক্তিগত ফটো অ্যালবামের হদিস পেয়ে গেছে। ফলে আমাদের
এই ডেটার দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি এসব তথ্য অপচক্র বা তৃতীয় পক্ষের নাগালে পৌঁছে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তাই এর পর থেকে কোনো ট্রেন্ডে
ভেসে যাওয়ার আগে ভাবতে হবে, কয়েক সেকেন্ডের উন্মাদনা জীবনের গোপনীয়তার
দেয়াল ভেঙে যেন দুর্বল না করে।
- বিষয় :
- প্রযুক্তি