আশুগঞ্জ নদীবন্দর
জেটি ও আলোর অভাবে পণ্য ওঠানামায় বিঘ্ন
আশুগঞ্জ নদীবন্দরের স্টিল জেটি দিয়ে ওঠানামা করা হচ্ছে পণ্য-সমকাল
আনোয়ার হোসেন, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২২ | ২৩:৩৮
আশুগঞ্জ নৌবন্দরে অধিক সংখ্যক পণ্যবাহী নৌযান ভেড়ায় বেড়েছে ইজারামূল্য। তবে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর (লোডিং-আনলোডিং) জন্য নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক জেটি। তাছাড়া জেটি ও বন্দর এলাকায় নেই পর্যাপ্ত আলোর সুবিধা। সন্ধ্যা নামতেই বন্দর এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এতে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানো-নামানোয় যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি বন্দরে তৈরি হচ্ছে পণ্যজট।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, আরও অন্তত ২-৩টি জেটি স্থাপন ও বন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হলে পণ্য উঠানো-নামানো সহজ হবে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও।
নৌবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য (সার, সিমেন্ট, রড, বালু, পাথর) পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েক বছরে আশুগঞ্জ নদীবন্দরে ভিড়ছে অধিক সংখ্যক কার্গো জাহাজ ও বাল্ক্কহেড।
৭-৮ বছর আগে যেখানে দৈনিক ১০-১৫টি পণ্যবাহী নৌযান আসত, সেখানে বর্তমানে গড়ে ৪০-৫০টি জাহাজ ও বাল্ক্কহেড ভিড়ছে। এসব নৌযানের মধ্যে ১০-১৫টি লোডিং-আনলোডিংয়ের অপেক্ষায় থাকে। বিদ্যমান দুটি জেটি দিয়ে অর্ধেক পণ্যও লোডিং-আনলোডিং করা সম্ভব হয় না।
সরকার আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে আন্তঃদেশীয় ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট ঘোষণা করায় বাংলাদেশ-ভারত ২০০৯ সালে চুক্তি করে। এরপর থেকে ভারতীয় পণ্য নিয়েও ভিড়ছে নৌযান।
চলতি অর্থবছরে নৌবন্দরে ইজারামূল্য (ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে) ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে (২০২১-২২) ছিল ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ফেরিঘাট রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম নাসির বলেন, বন্দর দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ থেকে হাজার টন রড ওঠানামা করে। জেটি কম থাকার সুযোগে কিছু প্রভাবশালী নদীতীর দখল করে ফায়দা লোটে। জেটিসহ বন্দরের নিজস্ব অবকাঠামো বৃদ্ধি পেলে কেউ যেমন অবৈধ সুযোগ নিতে পারবে না, তেমনি আরও বাড়বে বন্দরের ইজারামূল্য।
ফেরিঘাট পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুমেল মুন্সী বলেন, মূল জেটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বা পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য বিশেষ সময়ে নিজেদের অর্থে বাঁশের জেটি করা হয়।
এসব জেটি আবার বিআইডব্লিউটিএ ভেঙে ফেলে। এতে তাঁরা আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হন। তিনি বলেন, বন্দরের আরও কমপক্ষে ৩টি জেটি, আলোর ব্যবস্থা করা হলে কাজে গতি বাড়বে। এতে কেউ অবৈধ জেটি নির্মাণ করতে যাবে না।
বাংলাদেশ কার্গো জাহাজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাজমুল হোসাইন হামদু বলেন, আশুগঞ্জ বন্দরে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০-৬০টি জাহাজ অবস্থান করে এবং ১০-১৫টি পণ্য আনলোডিংয়ের অপেক্ষায় থাকে। বিদ্যমান জেটি পর্যাপ্ত নয়। লোডিং-আনলোডিংয়ের জন্য জাহাজ বন্দরে অবস্থান করলে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এতে জাহাজ মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরে জেটি ও আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
