ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এসেছে তিন শতাধিক মৃত জেলিফিশ

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এসেছে তিন শতাধিক মৃত জেলিফিশ
×

ভেসে আসা জেলিফিশ, ছবি: সমকাল

কক্সবাজার সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২২ | ০৯:৩২ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২২ | ০৯:৩২

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দুদিন ধরে অসংখ্য মরা জেলিফিশ ভেসে আসছে। একেকটি জেলিফিশের ওজন ১০ থেকে ১৫ কেজি। হঠাৎ বিপুলসংখ্যক জেলিফিশ ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তিন শতাধিক জেলিফিশ ভেসে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এর মধ্যে বুধবার বিকেলে সৈকতের দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে একসঙ্গে অর্ধশতাধিক জেলিফিশ ভেসে আসে বলে জানান স্থানীয় পরিবেশকর্মী পারভেজ আহমেদ।

মোহাম্মদ রফিক নামে দরিয়ানগর এলাকার এক জেলে জানান, তিন বছর তিনি সাগরে মাছ ধরছেন। একসঙ্গে কখনও এত জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখেননি। কিছু জেলিফিশ কুকুর খেয়ে ফেলছে; কিছু বালুর নিচে চাপা পড়েছে। তবে এখনও অনেক জেলিফিশ বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে না বলে জেলিফিশ সাধারণত জোয়ারে ভেসে ভাটার সময় সৈকতে আটকা পড়ে। অনেক সময় জেলেদের জালেও আটকা পড়ে মারা যায়। জেলিফিশ সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রিয় ও প্রধান খাবার।

ইকোসিস্টেমে সামুদ্রিক কচ্ছপ হ্রাস পেলে জেলিফিশ বৃদ্ধি পায়। জেলিফিশ প্রচুর পরিমাণে মাছ শিকার করে বলে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বিস্তারও বাধাগস্ত হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ৫০ প্রজাতির জেলিফিশ রয়েছে। সৈকতে আসা জেলিফিশগুলো বক্স প্রজাতির। এদের বিষমুক্ত করার কোনো ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি। বক্স জেলিফিশ যত বড় হয়, তত বিষ বহন করে। এ জন্য সৈকতে বেড়ানোর সময় এ ধরনের মৃত জেলিফিশ দেখলে তা খালি হাতে স্পর্শ করা উচিত নয়। কারণ, এগুলো প্রাণঘাতী না হলেও স্পর্শে শরীরে চুলকানির মতো রোগ দেখা দিতে পারে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, হঠাৎ এত বিপুলসংখ্যক জেলিফিশ ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান জরুরি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সৈকত থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে কক্সবাজার সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট। কক্সবাজার ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান বলেন, ৬৫ দিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই থেকে সব ট্রলার সাগরে নেমেছে। অন্যান্য মাছের মতো বঙ্গোপসাগরে জেলিফিশের প্রজনন বেড়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেলিফিশগুলো জেলেদের জালে আটকে পড়ে মারা গেছে। এখন জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে। তবে বিপুলসংখ্যক জেলিফিশের মৃত্যুর পেছনে সমুদ্রদূষণ কিংবা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, চার হাজারের বেশি ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে নেমেছে। দিনে গড়ে ৩০০ ট্রলার বিভিন্ন ফিশারিঘাটে ফিরে আসছে। কিন্তু কোনো ট্রলারের জালে জেলিফিশ ধরা পড়ার খবর নেই।

আরও পড়ুন

×