বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোয় অভিযুক্ত সেই ব্যক্তি গ্রেপ্তার
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:৩৫
বগুড়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সেই স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া কোচ টার্মিনাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় গৃহবধূর বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, কোচে করে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঠনঠনিয়া কোচ টার্মিনালে গিয়েছিল ওই ব্যক্তি। গোপন সংবাদে খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গীকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। স্ত্রীকে ধর্ষণকারী তার সেই সঙ্গী কে ছিল তাও স্বীকার করেনি সে। তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে।
এর আগে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে শনিবার রাতে শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তদন্ত শেষে রোববার সকালে তা এজহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় তার স্বামীকে প্রধান আসামি করা হয়। আর অজ্ঞাত দেখানো হয় ধর্ষণে অভিযুক্তকে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে অহেতুক নির্যাতন করে আসছিল তার মেয়ের জামাই। অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পক করে আসছিল সে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে তার মেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ওই নারীকে গাইনি ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার পেটসহ শরীরের একাধিক স্থানে ফোসকা এবং মাথার কিছু চুল কাটা রয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাই ওই নারীর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এখনও রিপোর্ট হাতে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ‘হানিফ পরিবহনের’ সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত এই ব্যক্তি কয়েকদিন পর পর বাসায় আসতেন। তার সঙ্গে একাধিক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তার আগেই তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদও হতো। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার স্ত্রী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বাড়ির বাইরে আসেন। এ সময় তার জামায় আগুন জ্বলছিল এবং দু’হাত বাঁধা ছিল। এ দৃশ্য দেখার পর স্থানীয় এক ব্যক্তি আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী সকালে তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে মিলে তার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর স্বামী তার বন্ধুকে ওই ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ধর্ষণের করতে বলে। ধর্ষণের পর তাকে মারপিটের পর মাথার বেশ কিছু চুল কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী।
