নারীকে নির্যাতনের পর অপহরণকারী বলে চালানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:০১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নারীকে বাসায় ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে শিশু অপহরণকারী বলে পুলিশে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাক আহমেদ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার নারী বাদী হয়ে রোববার বিকেলে সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।
ওই নারী জানান, তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার হরষপুরে। অভিযুক্ত ফয়সালের বাড়িও ওই এলাকায়। ফয়সাল বিয়ে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে।
পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার দুপুরে ফয়সাল ওই নারীকে মোবাইল ফোনে কল করে জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে (ওই নারীকে) তার বাসায় আসতে হবে। ফয়সাল তাকে আশুগঞ্জ উপজেলার উজানভাটি হোটেলের সামনে আসতে বলেন। ফয়সালের কথা মতো তিনি সেখানে আসেন। পরে সেখান থেকে ফয়সাল তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর ফয়সাল তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি তার ভাইয়ের কাছে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আনেন। বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ফয়সাল ওই নারীর কাছে থাকা নগদ চার হাজার টাকা ও তার মোবাইল ফোন সেট নেয়। পরে একটি নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয়। এক পর্যায়ে ফয়সাল ও তার শ্যালক তাকে বেদম মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয় এবং গরম লোহার চাসনি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। এরপর শনিবার রাত ১০টার সময় ফয়সাল ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে নারীকে শিশু অপহরণকারী বলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ফয়সালকে গ্রেপ্তার ও ওই নারীকে উদ্ধার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, ফয়সালের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় ফয়সালকে। নির্যাতনের শিকার নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, পুরো বিষয়টি সাজানো নাটক। ফয়সাল একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানায় ১১টি মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে।
- বিষয় :
- নির্যাতন
- ফাঁসানোর চেষ্টা
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
