নবজাতক নিয়ে থানায় 'ধর্ষণের শিকার' কিশোরী
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:০৮
বগুড়ার ধুনটে 'ধর্ষণে'র ফলে জন্ম নেওয়া নবজাতককে কোলে নিয়ে থানায় গিয়ে বিচার দাবি করেছে এক কিশোরী (১৬)। তার দাবি, দশ মাস আগে ধর্ষণের শিকার হলেও গ্রাম্য প্রভাবশালীদের ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি সে। সোমবার দুপুরে নবজাতককে নিয়ে ধুনট থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান (১৯) উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি পাইকারপাড়া এলাকার ফজলুল বারীর ছেলে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
ওই কিশোরীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে তাকে তার নিজ বাড়িতে প্রথমবার ধর্ষণ করে প্রতিবেশি মেহেদী। এরপর ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হলে পড়লে তার পরিবার নিমগাছী ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বিচারের দাবি করে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো বিচার পায়নি তারা। এমনকি ভয় দেখিয়ে আইনের আশ্রয়ও নিতে দেওয়া হয়নি ওই কিশোরীর পরিবারকে। এ অবস্থায় গত ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি ওই কিশোরী তার বাড়িতে এক কণ্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার দুপুরে বিচারের দাবিতে নবজাতককে নিয়ে থানায় হাজির হয় সে।
ওই কিশোরীর মা বলেন, 'ধর্ষনের ঘটনা জানাজানি হলে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দীর্ঘদিনেও কোনো বিচার করেনি। কেউ কেউ আমাদের ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন।
তবে নিমগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, 'বাচ্চা জন্ম হওয়ার দু'দিন আগে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরেছি। তাই তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।'
ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় সন্ধ্যায় একজনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদীর বাবাকে থানায় আটক রেখে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই কিশোরী ও নবজাতকের চিকিৎসাসহ সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
