ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

তারেক ঘনিষ্ঠ ডা. শাহাদাতই বিএনপির মেয়র প্রার্থী

তারেক ঘনিষ্ঠ ডা. শাহাদাতই বিএনপির মেয়র প্রার্থী
×

ডা. শাহাদাত হোসেন। ফাইল ছবি

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:১৩

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে দলটি।

সোমবার রাতে লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলার পর ডা. শাহাদাতের হাতেই তুলে দেন দলীয় প্রতীক 'ধানের শীষ'। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে শাহাদাতের।

রাত পৌনে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করে সমকালকে বলেন, ‌‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

চসিকের মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় ছিলেন ছয়জন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও ছিলেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদউল্লাহ ও নগর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সহসম্পাদিকা ডা. লুসি খান।

চসিকের মেয়র পদে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ সিনিয়র নেতারা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয়।

চট্টগ্রামে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন ডা. শাহাদাত। এ কারণে জেলও খাটতে হয়েছে তাকে। ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ২৯ জানুয়ারি জামিনে ছাড়া পান তিনি। সব মিলিয়ে দলের হাইকমান্ডের সুনজরে ছিলেন এই বিএনপি নেতা।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কারাগারে থেকেই চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে হেরে যান। তবে সেই নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন এই বিএনপি নেতা।

যেভাবে রাজনীতিতে শাহাদাত:

ছাত্রদলের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এমবিবিএস পাস করার পর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সংগঠনটির চট্টগ্রাম জেলা সভাপতির পাশাপাশি বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি ছিলেন তিনি। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও করা হয়েছিল ডা. শাহাদাতকে। পরে নগর বিএনপির সভাপতি পদ পেতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

চিকিৎসক হিসেবেও সফল শাহাদাত:

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হিসেবেও সফল শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি ফিজিক্যাল মেডিসিন বিষয়ে এমডি করেন। চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়ে ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে একটি চেম্বার রয়েছে গোল্ড মেডেল পাওয়া ডা. শাহাদাত হোসেনের। চিকিৎসা পেশায় বেশ সুনামও রয়েছে তার।

১৯৬৬ সালের ২ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার করলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন। তার বাবা প্রয়াত আহমদুর রহমান ও মা শায়েস্তা খানম। তার স্ত্রীর ফারজানা হোসেন একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকেন কানাডা।

আরও পড়ুন

×