লাল টুপি, বন্দুক হাতে হত্যা মামলার আসামি মেহেদী
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২২ | ০২:২৯
মাথায় লাল টুপি, পরনে জিন্সের প্যান্ট- একটি শটগান উঁচিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে এগিয়ে যাচ্ছেন মেহেদী হাসান। ২০২০ সালে কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান জিলানী হত্যা মামলার আসামি তিনি। গত শনিবার টাউন হল মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন চলাকালে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর ও আশপাশের সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গুলির ঘটনায় তিন দিন পার হলেও জড়িতদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল সোমবার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। পুলিশের দাবি- ছবি, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁরা তিন-চারজনকে শনাক্ত করেছেন। এদের মধ্যে মেহেদীও আছেন।
একটি মাধ্যমে সমকালের হাতে এসেছে ৩৩ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজ। এতে দেখা যায়, মাথায় লাল টুপি পরে মেহেদী শটগান উঁচিয়ে পূবালী চত্বরের পাশের রাস্তায় আরও কয়েক যুবকের সঙ্গে নজরুল অ্যাভিনিউর দিকে গুলি করছেন। তাঁদের উল্টো দিকে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমার সমর্থকরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রধারী মেহেদীর পাশে থাকা অপর যুবকরা কখনও ইটপাটকেল মারছেন, আবার কখনও পিছু হটছেন। একপর্যায়ে মেহেদী গুলি করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
সিটিভি ফুটেজ বিশ্নেষণে পুলিশ ও গোয়েন্দারা আরও কয়েকজনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ফুটেজে থাকা লাল টুপি পরা যুবকটি মেহেদী হাসান বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা পুরাতন বাজার এলাকায় ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর প্রকাশ্যে খুন হওয়া যুবলীগ কর্মী জিলানী হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি।
সূত্র জানায়, মেহেদী সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীবল্লভপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। এর আগে রোববার সাকিব, মীর সামদানি ও সীমান্ত নামে আরও তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। তারাও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী এবং এমপি বাহারের অনুসারী।
পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে সিসিটিভির ফুটেজে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করার দাবি করা হলেও তাদের আটক না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সমকালকে তিনি বলেন, অস্ত্রধারী যদি তার গ্রুপেরও হয়, তাহলেও পুলিশ যেন তাদের গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, যখন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি অনুসারীদের নিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছিলেন। বিনা উস্কানিতে এমপি বাহারের লোকজন গুলি ও ককটেল ছুড়েছে। সম্মেলনস্থলের বাইরের এসব ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নেতারা কুমিল্লা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে গেলেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হানিফ সরকার সমকালকে জানান, তাঁরা বসে নেই। ছবি, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারী চিহ্নিত করা হচ্ছে। এখনই সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, অস্ত্র প্রদর্শন, গুলি ও ককটেল বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- জিলানী হত্যা
- অস্ত্রধারী
- যুবলীগ কর্মী
