বিয়ে 'না দেওয়ায় অপহরণের' নাটক কলেজছাত্রীর
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৭:৪৭
পরিবার থেকে বিয়ে না দেওয়ায় শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজানো এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উপজেলার নড়িয়া সরকারি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী রেশমি রেজাউল রিয়াকে (২০) বুধবার দুপুরে নড়িয়া থানা পুলিশ ঢাকার হাতিরঝিল থেকে উদ্ধার করে।
রেশমি উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের থিরপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম মাঝির মেয়ে।
নড়িয়া থানা পুলিশ, রেশমির পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রেশমি। পরে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। দুপুর ১২টার দিকে তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে কল দেন তিনি।
ফোন দিয়ে রেশমি বলেন- কলেজের ৬ থেকে ৭ জন ছাত্রী আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পরে মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক খোঁজ করে না পেয়ে বিকেলে নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা রেজাউল করিম।
রেশমির প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম আকাশ বলেন, আমার বোন নড়িয়া সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। রেশমি আত্মগোপন করার পর তার পরিবার আমার বোনকে দোষারপ করেছিল। রেশমির বাবা রেজাউল করিম মাঝির সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। আমাদের ফাঁদে ফালানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে রেজাউল করিম এই কাজটি করেছে। আমি এর বিচার চাই।
নাম প্রকাশ্যে অনুচ্ছুক নড়িয়া সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রেশমি কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।তার কারণে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চিন্তিত ছিল। এর একটি দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন।
রেশমির বাবা রেজাউল করিম বলেন, আমার মেয়েকে কেউ অপহরণ করেনি, স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ রেশমাকে উদ্ধার করেছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নিজ ইচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন রেশমি। বুধবার দুপুরে ঢাকা হাতিরঝিল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তার বাবা বিয়ে দেন না বলে রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল রেশমি।
- বিষয় :
- শরীয়তপুর
- কলেজছাত্রী
