মুক্তিপণ পাঠিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:০৪
মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে মুক্তিপণ হিসেবে তার বাবা মনির হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। এক পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকায় রফা হওয়ার পর ১০ হাজার বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীদের পাঠান মনির হোসেন। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।
ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ইব্রাহীমকে। ঘটনার দু'দিন পর শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের মিরেরগাঁও এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, হাজারীবাগের বাসিন্দা মনির হোসেনের তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিল ইব্রাহীম। সে স্থানীয় ইকরা দারুল উলুম মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাস করে বাসায় ফেরার সময় ইব্রাহীমকে অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে যায়।
মনির হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ে তার ছেলে বাসায় না ফেরায় তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। এরই মধ্যে অপহরণকারীরা তার কাছে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়েও দেন। তারপরও তার ছেলেকে এভাবে হত্যার পর রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।
মহানগর পুলিশের সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, রেললাইনের পাশে ওই শিশুর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
এসআই সরওয়ার হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, শিশুটির গলায় কালো দাগ ও নাকে রক্ত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
র্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবুঝ এই শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে র্যাবের একটি দল এরই মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া সমকালকে বলেন, যে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেই নম্বরের ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
