'মৃত' থেকে জীবিত হতে চান আব্দুস সামাদ
আব্দুস সামাদ
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:১৪ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:৩১
আব্দুস সামাদ এখনও জীবিত, কিন্তু সরকারের তালিকায় তিনি একজন 'মৃত' ব্যক্তি। জীবিত থেকেও মৃত- সরকারি এই তালিকা থেকে নিজেকে জীবিত করতে আবেদন জানিয়ে কয়েক বছর ধরে ধরনা দিয়ে চলেছেন বিভিন্ন দপ্তরে।
পেশায় কৃষক আব্দুস সামাদ বাগাতিপাড়া পৌরসভাধীন লক্ষ্মণহাটি এলাকার মো. এলবাস আলী ও মোছা. আয়েশা বেগমের ছেলে। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
আব্দুস সামাদ বলেন, '২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছি আমি। কিন্তু পাঁচ বছর আগে জানতে পারি, সরকারি খাতায় আমি মৃত। বিষয়টি পৌর মেয়রসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তারা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের পরামর্শে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে তারা অল্প সময়ে বিষয়টি সংশোধন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত পাঁচ বছরে মৃত থেকে জীবিত হতে পারিনি। বিষয়টি সংশোধন হয়েছে মনে করে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ভোট দিতে গেলে আবারও আমাকে ভোট দিতে না দিয়ে বলা হয়- আমি নাকি মৃত। সশরীরে উপস্থিত জীবন্ত মানুষকে মৃত বলায় অবাক হই। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরও মৃত বলে ভোট প্রদান করতে দেওয়া হয়নি আমাকে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করলে তিনিও অল্প সময়ে সংশোধনের আশ্বাস দেন। অল্প সময় কতদিনে হয়, তা তারাই বলতে পারেন। গত শুক্রবার উপজেলায় স্মার্ট কার্ড নিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে আসতে হয়েছে। সেখান থেকেও জানানো হয়েছে- আমি মৃত।'
আব্দুস সামাদের ছেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমার বাবা জীবিত থাকার পরও সরকারি খাতায় মৃত দেখানো হচ্ছে কেন? তিনি দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে বিগত নির্বাচনগুলোতে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। একইভাবে স্মার্ট কার্ড না দিয়েও বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে। বাবা মৃত থেকে জীবিত হতে বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিকসহ লিখিত আবেদন করেও জীবিত হতে পারেননি প্রায় পাঁচ বছর ধরে।'
বাগাতিপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইউসুফ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'প্রায় এক বছর আগে আব্দুস সামাদের মৃত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। তিনি আমার ওয়ার্ডের ভোটার হওয়ায় খুব ভালোভাবে চিনি ও জানি। বিষয়টি নিয়ে বহু চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল না হওয়ায় কষ্ট পাচ্ছি।'
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুস সামাদের একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার পর ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বিষয়টি সংশোধনের জন্য। ঢাকা থেকে সংশোধন হয়ে এলে সামাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন তিনি।
- বিষয় :
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- বাগাতিপাড়া
- নাটোর
