ছেঁউড়িয়ায় লালন স্মরণোৎসব শুরু রোববার
ফাইল ছবি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:৪৩ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:৪৭
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় দোল পূর্ণিমা ঘিরে শুরু হচ্ছে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব। রোববার সন্ধ্যায় আখড়াবাড়ির উন্মুক্ত মঞ্চে স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি এ উৎসবের আয়োজন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাউল ও দর্শনার্থী কম থাকলেও উৎসব শুরু হলে লোকসমাগম বাড়বে বলে জানান আয়োজকরা। 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি' প্রতিপাদ্য নিয়ে তিন দিনের এই স্মরণোৎসব ও গ্রামীণ মেলা চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইজি জীবদ্দশায় শিষ্যদের নিয়ে দোল পূর্ণিমায় ছেঁউড়িয়ার কালীগঙ্গা নদীর তীরে সারা রাত ধরে তত্ত্ব কথা আলোচনা ও গানবাজনা করতেন। কালীগঙ্গায় এখন আর স্রোত নেই, মানুষ তাই নাম দিয়েছে মরাকালী গঙ্গা। তবে নদীর স্রোত থেমে গেলেও সাঁইজির ভক্তরা থেমে যাননি। তার মৃত্যুর পরও ভক্ত-শিষ্যরা বছরের পর বছর ধরে এ বিশেষ দিনটি পালন করে আসছেন। এ উৎসবে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাউল তীর্থভূমি ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে ছুটে এসেছেন সাধু-গুরু, বাউল ভক্তরা। এসেছেন নানা বয়সের বিদেশি দর্শনার্থীও।
শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবার বাউল-সাধুদের তেমন উপস্থিতি নেই। দর্শনার্থীও কম। যারা এসেছেন তারা ছোট দলে ভাগ হয়ে গেয়ে চলেছেন লালনের গান। একটি দলের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে লালনের গান উপভোগ করছেন বেশ কয়েকজন বিদেশি। স্থানীয় বাউলদের গানের তালে নেচে নেচে আসর মাতাচ্ছেন বিদেশিরা। কথা হয় তাদের সঙ্গে আসা বাংলাদেশি নাগরিক মঈন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, দর্শনার্থী সবাই জাপানি নাগরিক। স্মরণোৎসব দেখতে এসেছেন তারা।
আয়োজকরা জানান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থেকে স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ ও পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান। আলোচনা সভা শেষে উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হবে লালনসংগীত অনুষ্ঠান।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আসলাম হোসেন বলেন, লালন স্মরণোৎসবের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। র্যাব পুলিশ পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সেই সঙ্গে দায়িত্বে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
- বিষয় :
- লালন স্মরণোৎসব
- ছেঁউড়িয়া
- কুষ্টিয়া
