ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

খুলনায় ১৯,২০০ খুদে শিক্ষার্থীর কন্ঠে ৭ মার্চের ভাষণ

খুলনায় ১৯,২০০ খুদে শিক্ষার্থীর কন্ঠে ৭ মার্চের ভাষণ
×

খুলনায় একসাথে ১৯ হাজার ২০০ খুদে শিক্ষার্থীর কন্ঠে উচ্চারিত হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ- সমকাল

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ১০:০২ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ | ১০:২০

খুলনায় ১৯ হাজার ২০০ জন শিশু বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণ। 

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং চাইল্ড ইন্টিগ্রিটি ও শিশু বঙ্গবন্ধু ফোরামের ব্যবস্থাপনায় শনিবার এই ভাষণের আয়োজন করা হয়। খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিণত হয় যেন রেসকোর্স ময়দানে।



এদিন জেলা স্টেডিয়ামে সারিবদ্ধভাবে শনিবার দুপুর একটায় প্রবেশ করে ১৯ হাজার ২০০ জন শিশু বঙ্গবন্ধু। রেসকোর্স ময়দানের মতো দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমবেত কণ্ঠে উচ্চারণ করে। শিশু বঙ্গবন্ধু কণ্ঠে ধ্বনিত হয় 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম'। ইতিহাস যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে যায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের সেই মাহেদ্রক্ষণে। বঙ্গবন্ধু জনতার মধ্যে এলেন, স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্খায় উজ্জীবিত কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা হাত নেড়ে অভিবাদন জানালো তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে। শুরু হলো সেই কণ্ঠের অনুরণন।



বঙ্গবন্ধুর ১৯ মিনিটের সেই ভাষণ পুরোটাই মুখস্থ করে এসেছিল ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষণ শুনে মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী 'মুজিববর্ষ' সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই ভাষণদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে ভাষণ দেয় শিশুরা।

ভাষণ পাঠের পরে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার শপথ পাঠ করান শিক্ষার্থীদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুস্পুত্র ও সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। বক্তৃতা করেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবীর।

অনুষ্ঠানে হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস, সংসদ সদস্য শেখ আকতারম্নজ্জামান বাবু, সাবেক সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ, পুলিশ সুপার এস এম শফিউলতাহ, মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত থাকা আটজন ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারম্ননুর রশীদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর খুলনা আঞ্চলিক প্রধান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন। সবশেষে ছিল দেশাত্মবোধক গান।

আরও পড়ুন

×