নারীর অগ্রযাত্রায় আলোর দিশারি নূরজাহান বোস
মুফতী সালাহ্উদ্দিন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০০:১১ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০০:৩১
সাগরকন্যা পটুয়াখালীর উপকূল অঞ্চলে নারী অগ্রযাত্রার অনন্য এক নাম নূরজাহান বোস। এই উপকূল জনপদের নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন এবং নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। এমনকি নারী শিক্ষা বাড়াতে নিজ উদ্যোগে স্কুলপড়ূয়া মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছেন এবং কিনে দিচ্ছেন বাইসাইকেলও। নারীদের দিচ্ছেন বিনা সুদে ঋণ। এতে বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের নারীদের জীবনচিত্র। কর্মসংস্থানসহ ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন নারীরা। এ ছাড়া এলাকার হতদরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রও করেছেন নূরজাহান বোস। নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ নূরজাহান বোস এসব করছেন তার প্রতিষ্ঠিত 'সংহতি' নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে।
নূরজাহান বোস (৮২) ১৯৩৮ সালের ১৪ মার্চ পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা জোহরা বেগমের উৎসাহে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ১৯৫৪ সালে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করেন অদম্য সাহসী এই নারী। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে বিএ পাস করে মাস্টার্সে ভর্তি হন তিনি। পরে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকা থেকে এমএ পাস করেন নূরজাহান বোস। ২০১০ সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নূরজাহান বোস ও তার মেয়ে মণিকা জাহান বোস মিলে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন 'সংহতি' নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এ সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং নারী শিক্ষা বিস্তারের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন তিনি। নূরজাহান বোসের এই কার্যক্রমকে 'আলোর দিশারি' হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নূরজাহান বোস সমকালকে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন যে হয়নি, তা বলব না। নারীরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছেন। তারা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে সাবলম্বী হচ্ছেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তারপরও বলব, নারীর সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর পূর্ণ মর্যাদা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠিত হলেই নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এগুলো প্রতিষ্ঠিত হলে আর নারী দিবস পালনের প্রয়োজন হবে না।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে সংহতি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এ উদ্যোগ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
পটুয়াখালীর সংরক্ষিত সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন বলেন, নূরজাহান বোস নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন, তাতে নারীরা আরও অনুপ্রাণিত হবেন। তার এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই এবং আমরাও তার সৈনিক হতে চাই।
- বিষয় :
- নারী দিবস
- নূরজাহান বোস
