রাজশাহীতে নৌকাডুবি: শিশু রুবাইয়ার মরদেহ উদ্ধার
ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০১:২৬ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০৫:৪১
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির তৃতীয় দিনে নিখোঁজ শিশু রুবাইয়ার (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কনেসহ দুইজনের সন্ধান এখনও মেলেনি।
রোববার সকালে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে ডুবুরি দল। এদিন ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় নৌকাটিও উদ্ধার করেছে তারা।
রাজশাহী দমকল বাহিনীর সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযানকালে দ্বিতীয় নৌকার সন্ধান পাওয়া গেছে। দুপুরে পাওয়া যায় শিশু রুবাইয়ার মরদেহ। সে কনে সুইটির ফুপাতো বোন।
এদিকে, শনিবার উদ্ধার পাঁচজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হ্স্তান্তর করা হয়। রাতেই তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চরখিদিরপুর এলাকার প্রয়াত ইনসার আলীর ছেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান রুমনের সঙ্গে বিয়ে হয় পবা উপজেলার কর্ণহার থানার শাহীনের মেয়ে সুইটির। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুইটিকে নেওয়া হয় চরখিদিরপুরে রুমনের বাড়িতে। শুক্রবার সেখানে বৌভাত ছিল। সুইটির স্বজনরা বৌভাতের দাওয়াত খেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সুইটি ও তার স্বামী রুমনকে নিয়ে ফিরছিলেন। ইঞ্জিনচালিত দুটি ছোট নৌকা ৪১ যাত্রী নিয়ে নগরীর শ্রীরামপুরে পদ্মা পার হওয়ার সময় মাঝনদীতে ঝোড়ো হাওয়া ও ঢেউয়ের মাঝে পড়ে। এ সময় নৌকার ইঞ্জিন বিকল হলে যাত্রীরা ভয়ে নড়াচড়া করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের নৌকা ডুবতে থাকে।
তারপর বালুবাহী আরেকটি নৌকা এগিয়ে এলে সেটিতে ওঠেন অন্তত ৩২ জন। তাদের মধ্যে সাতজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে সুইটির ভাগ্নি নগরীর বসুয়া এলাকার রতনের মেয়ে মরিয়মকে (৬) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কনের বড় বোন শাহীনুর বেগমের স্বামী রতন আলী (৩০), তাদের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬), চাচা শামীম হোসেন (৩৫), চাচি শামীমের স্ত্রী মনি খাতুন (৩০), চাচাতো বোন মদিনা ওরফে রশ্মি (৮) ও খালাতো ভাই এখলাস আলীর (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে কনে সুইটি (১৮) ও খালা আঁখি (২২)।
