দরজা ভেঙে ঘরে পুলিশ, হৃদরোগে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
নাছির উদ্দীন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৩:২৭
চট্টগ্রামে গভীর রাতে পুলিশের অভিযানের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। গ্রেপ্তার করে থানায় নিতে চাইলে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাছিরের বাড়ি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদনগরে। তিনি জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল নেতা ও গরু কেনাবেচা করতেন। এদিকে অভিযান শেষে ফেরার পথে পুলিশের দলের ওপর হামলা হয়েছে। স্থানীয়দের ইটপাটকেলে জেলা ডিবির এসআই রাসেল পারভেজ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার কনস্টেবল সাধন বিকাশ চাকমা আহত হন।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় গরু চুরির মামলায় এক আসামি তার জবানবন্দিতে নাছিরের পরিকল্পনায় তারা গরু চুরি করে বলে জানায়। চুরির গরু পরিবহনের পাশাপাশি সেগুলো কিনতেন নাছির। সম্প্রতি দুই দফায় তাদের পাঁচটি গরু নাছির ২ লাখ টাকায় কিনেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম শহীদনগরে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশ। ডিবির ওসি নূর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশও অংশ নেয়। নাছিরের বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কেউ দরজা খোলেনি। পরে স্থানীয়দের নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে নাছিরকে থানায় নিতে চায় পুলিশ। তবে ওয়ারেন্ট বা মামলার তথ্য ছাড়া নাছির থানায় যেতে রাজি হননি। এ নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে অসুস্থবোধ করলে নাছির ঘরে ওষুধ খেতে যান। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁকে সকালে থানায় পাঠানোর কথা বলে চলে আসে।
তবে নাছিরের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন সমকালকে বলেন, গভীর রাতে বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশ। কোন মামলায়, কে নাকি জবানবন্দিতে গরু চুরির বিষয়ে বাবার নাম বলেছে। এর ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে ধরতে এসেছে। এভাবে কেউ কারও নাম বললেই যাচাই ছাড়া গ্রেপ্তার করা যায়? তিনি আরও বলেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আগে থেকে হৃদরোগী, হার্টে একটি রিং পরানো। পুলিশের কর্মকাণ্ডে ঘাবড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাছিরের বোন জামাই শহীদুল ইসলামের অভিযোগ, অভিযানে আসা পুলিশ সদস্যরা বাসার জানালার কাচ ও দরজা ভাঙচুর করেন। আসামি গ্রেপ্তারের নামে তাঁরা তাণ্ডব চালান।
ডিবির ওসি নুর মোহাম্মদ জানান, দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করলেও দরজা খোলেনি। পরে পাড়ার সর্দার মঈন উদ্দীনকে ডেকে এনে দরজা খোলা হয়। সবার উপস্থিতিতে বিস্তারিত জানিয়ে নাছিরকে থানায় আসতে বলা হয়। এক পর্যায়ে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন জানিয়ে ওষুধ খেতে ঘরে যান। স্বজনদের তাঁকে হাজির করার কথা জানিয়ে চলে আসে পুলিশ। আসার সময় স্থানীয়রা ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। এতে পুলিশের দু'জন আহত হন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি ফেরদৌস জাহান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নাছিরের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
