শিক্ষিকা স্ত্রীকে কুপিয়েছে স্বামী, বাবার বিচার চাইল দুই সন্তান
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৪৬
আমরা দুই ভাই আজ অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তান হয়ে বাবার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে। মাকে বাঁচাতে এ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যৌতুকের দাবিতে শিক্ষিকা মাকে কুপিয়ে জখম করায় বাবার শাস্তি দাবি করে এমন আকুতি জানিয়েছে দুই সন্তান।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সহোদর জিহাদ ও জিসান বুধবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিমিরকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মো. জিহাদ। সে বলেছে, তার মা মারুফা আক্তার পপি তিমিরকাঠি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ২০ বছর আগে একই উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবা নূরে আলমের সঙ্গে তাদের মায়ের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাবা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। ২০১৫ সালে ৭০০ বোতল ফেনসিডিলসহ নূরে আলম র্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এক বছর পর জামিনে বের হয়ে স্ত্রী মারুফা আক্তারের কাছে ব্যবসা করার জন্য ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত শুক্রবার বিকেলে মারুফাকে কুপিয়ে জখম করে নূরে আলম। তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জিহাদ আরও অভিযোগ করেন, তার মাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় নানা মুক্তিযোদ্ধা মো. আইয়ুব আলী হাওলাদার বাবার বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ নূরে আলমকে গ্রেপ্তারও করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নূরে আলমের আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এমনকি নূরে আলম মুক্তি পাওয়ার পর মাসহ দুই ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নূরে আলমের বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে জিহাদ ও জিসান।
এদিকে, গত সোমবার শিক্ষিকা মারুফা আক্তারকে কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে এবং তার স্বামী নূরে আলমের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তিমিরকাঠি এলাকাবাসী। বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে এলাকাবাসী ছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
