ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

আবার বিলীনের শঙ্কায় গোবিন্দপুর

মেঘনায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য

আবার বিলীনের শঙ্কায় গোবিন্দপুর
×

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেন্দীগঞ্জের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন মেঘনার মাঝে একটি দ্বীপ ভূখণ্ড। এক সময়ে মেঘনায় বিলীন হওয়া ইউনিয়নটি বছর দশেক আগে আবার জেগে উঠেছে, অনেকের কাছে যা দুর্গম এলাকা। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, এই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন নরগোড়াচর-সংলগ্ন মেঘনায় বালু কাটা হচ্ছে।

এর পাশের সীমানা ভোলার ইলিশা এলাকা। মেঘনা তীরবর্তী ইলিশার রাজাপুর মৌজা অংশটি ভোলা জেলা প্রশাসকের ইজারা দেওয়া বালুমহাল, যার দূরত্ব গোবিন্দপুরের নরগোড়াচর থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার। গ্রামবাসীর অভিযোগ, ইলিশার ড্রেজার গোবিন্দপুর অংশে ঢুকে বালু কাটছে। অর্ধশতাধিক ড্রেজার দিয়ে কাটা বালু বাল্কহেডে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দপুর ইউনিয়নে দরিদ্রদের জন্য নির্মিত সরকারি ব্যারাকে থাকেন ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন চর অংশে অনেকগুলো ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন বালু কাটা হয়। ইসমাইল বলেন, ‘প্রায় ১৫ দিন আগে বালু কাটা শুরু হয়। ইউনিয়নের চারদিকে মেঘনা। এভাবে বালু কাটা হলে ভাঙন শুরু হবে। আর ভাঙন শুরু হলে ইউনিয়নই থাকবে না।
এদিকে একাধিক ড্রেজারের লোকজন বলছেন, তারা প্রতি গণফুট ৪৫ পয়সা হারে বালু কাটতে এসেছেন। এই এলাকাটি ভোলা না মেহেন্দিগঞ্জের তা তারা জানেন না। ড্রেজার শ্রমিক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ‘ভোলার ইলিশা এলাকার সোপান কমিশনার ও জামিল হোসেন ওয়াদুদ ভাইয়ের কথায় ১৯-২০টি ড্রেজার দিয়ে এখান থেকে বালু উত্তোলন করছি।’

বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান সমকালকে বলেন, ‘ভোলা, বরিশাল ও মেহেন্দিগঞ্জের অনেকে মিলে ইলিশার রাজাপুর মৌজার বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। অর্ধশতাধিক শেয়ারের মধ্যে আমিও একজন। আমাদের ড্রেজার মেহেন্দিগঞ্জের সীমানায় ঢুকে বালু কাটছেন না। অন্যরা কাটে, সেটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জামিল হোসেন ওয়াদুদ বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর ড্রেজার পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, পানির স্রোতে ড্রেজার মেহেন্দিগঞ্জের দিকে চলে গিয়েছিল, সীমানা অতিক্রম করেনি।’
গোবিন্দপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নতুন করে জেগে উঠেছে। ভাঙনের পর যারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলন, তারা ফিরে এসে নতুন করে ঘরবাড়ি তুলেছেন। এ পর্যন্ত ১০ পরিবার এখানে বসতি গড়েছেন। বালুখেকোদের জন্য আবারও ইউনিয়নটি হুমকির মুখে পড়েছে।’
ইউএনও রিয়াজুর রহমান বলেন, ‘গত রোববার ম্যাজিস্ট্রেট ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×