হাকালুকিতে ইকো ট্যুরিজম বাস্তবায়নে ধীরগতি
হাকালুকি হাওরের মাঝে অবস্থিত বিশেষ পর্যটন আকর্ষণ ওয়াচ টাওয়ার সমকাল
মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট)
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইকো ট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সিলেটের হাকালুকি হাওরে পর্যটন বিকাশে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে মাঝেমধ্যে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভেস্তে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্টের পুরোনো জরাজীর্ণ বাজারে এসেই মূল সড়কটি শেষ হয়েছে। এখান থেকেই মূলত হাকালুকি হাওরের প্রবেশমুখ। অপার সম্ভাবনাময় এই হাওরে বছরজুড়েই দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। বিশেষ উৎসব আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এলাকাটি লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তবে ছোট বাজারটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এবং দর্শনার্থীদের সমাগমে স্থানীয় বাসিন্দাদের হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘদিন আগের একটি পরিত্যক্ত খাদ্যগুদাম বিগত সরকারের আমলে ভেঙে ফেলা হলেও সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, এক সময় এখানে যাতায়াতের সমস্যা থাকলেও পর্যায়ক্রমে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তাছাড়া, পুরোনো ও ছোট এই বাজারটিতে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ আক্ষেপ করে বলেন, সময়ে সময়ে ইকো ট্যুরিজমের আশ্বাস আসে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কমিটিও হাকালুকি ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত তা সরকারি কর্মকর্তাদের শুধু ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকে। পর্যটনের উন্নয়ন কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাকালুকি তীরে ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকলেও শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন এখানকার সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশে। এই পর্যটনকে ঘিরে এখন স্থানীয় শত শত মানুষের জীবিকা সচল রয়েছে। এই অঞ্চলে পর্যটনে অন্যতম সম্ভাবনা এবং বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে হাকালুকিকে ঘিরে।
হাকালুকিতে পরিবারসহ বেড়াতে আসা আব্দুল বাতেন জানান, হাওরের পরিবেশ দারুণ, তবে এখানে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো দরকার। যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করলে এটি বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে সাবেক পর্যটন সচিব এম মুহিবুল হক জানান, হাওর অঞ্চলকে ঘিরে পর্যটনশিল্পের প্রসারে মন্ত্রণালয়ের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে এবং এতে ইকো ট্যুরিজমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পর্যটন কেন্দ্র
