ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

অকৃষকের হাতে কার্ড, বঞ্চিত কৃষকদের বিক্ষোভ

অকৃষকের হাতে কার্ড, বঞ্চিত কৃষকদের বিক্ষোভ
×

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ কৃষক কার্ড ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে অকৃষক ও প্রবাসীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় সম্প্রতি ক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া এর প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বঞ্চিত কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকার মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৬ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ধাপে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার কৃষকের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় ১ হাজার ৫৬২ জন কৃষকের নাম স্থান পায়।

ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত, তালিকায় নেতা-স্বজনের ভিড়
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের পরিবর্তে স্থান পেয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, তাদের আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সবুর মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি ১৫ থেকে ২০ কেয়ার (বিঘা) জমিতে চাষ করেছিলেন। বন্যায় সব ফসল তলিয়ে গেছে। মেম্বার প্রথমে তাঁর নাম তালিকায় দিলেও পরে কেটে দেওয়া হয়। অথচ তিনি জানতে পেরেছেন, ইউনিয়নের তালিকায় অন্য ইউনিয়ন ও পৌরসভার লোকজনের নাম ঢুকে গেছে।

প্রবাসীর নামও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায়
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের আমড়াখাইর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষকদের পক্ষে হিমাংশু দাশসহ ১৯ জন কৃষক একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুন বিতরণ করা তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম ঢোকানো হয়েছে।
এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে কৃষকের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা ভুল লিখে, বাবার নাম ঠিক রেখে সরকারি টাকা ও চাল উত্তোলন করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই নেতার চাচাতো ভাই অলিলুর রহমান (খলিলুর রহমান) দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেখিয়ে তালিভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদ আহমেদ তালুকদার জানান, তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের আশ্বাস 
এক পরিবারে একাধিক নাম বা এক ইউনিয়নের তালিকায় অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা কীভাবে এলো– এমন প্রশ্নের জবাবে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় যদি কোনো প্রবাসীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে স্বজনদের নাম দেওয়া হয়, তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি এই মানবিক সহায়তা বিতরণের অনিয়ম যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী মহল অসহায় মানুষের অধিকার হরণ করতে না পারে।

আরও পড়ুন

×