বাঁশ ফেলে মহাসড়ক অবরোধে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জের মদনপুর এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচী সমকাল
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে এবার সড়কে বাঁশ ফেলে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড গরমে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলন চলাকালে পুলিশ তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে অনড় থাকেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতাল চালুর বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অবরোধ চলাকালে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাগুলো নির্বিঘ্ন রাখতে আন্দোলনকারীরা ‘ইমার্জেন্সি পাস’ দেন।
ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় প্রথমে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এরপর কলেজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চালকদের অনেককে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষার্থী শাহপরান ভূঁইয়া, তামিমা রহমান, পিয়াস চন্দ্র দাস, শামসিয়া তাবাসসুম মাইমা, সাইদুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ১০ তলা হাসপাতাল ভবনটি অকারণে ফেলে রাখায় এখন সেটি কীটপতঙ্গের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটি চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ২০২৬ সালে এসেও কর্তৃপক্ষ আমাদের শুধু অজুহাত দেখাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাজীবন এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মেডিকেল কলেজের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয়। কিন্তু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা চাওয়া হয়েছে, দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন লোকবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।
সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল করতে শুরু করে। প্রচণ্ড রোদে যাত্রীরা বেশ ভোগান্তিতে ছিলেন। বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
বিভিন্ন দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত সোমবার জেলা সদরের প্রধান চত্বর আলফাত স্কয়ারে প্রায় ২ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেছিলেন তারা।
- বিষয় :
- দাবি
