ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মাদ্রাসা বন্ধ না হলে জানাই হতো না সিয়ামের ওপর চলা নির্মম নির্যাতন

মাদ্রাসা বন্ধ না হলে জানাই হতো না সিয়ামের ওপর চলা নির্মম নির্যাতন
×

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৪৭

দেশব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে সরকার মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। বুধবার বন্ধ রাখা হয় মাদ্রাসাও। এদিন মাদ্রাসা থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি আসে মারুফ আহমেদ সিয়াম নামে এক শিশু। তখনই নজরে পড়ে তার শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন।

সিয়াম কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়া এলাকার মাসুদ করিম স্বপনের ছেলে। সে শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী। পড়া না পারায় মাদ্রাসার বড় হুজুর (অধ্যক্ষ) লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে শনিবার থেকে সিয়ামকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

সিয়ামের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, পড়া না পারার অভিযোগে শনিবার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাসাদুল হক সিয়ামকে বেদম লাঠিপেটা করেন। একই সঙ্গে কিল, ঘুষি ও এলোপাতাড়ি লাথি মারেন। লাঠির আঘাতে তার সারা শরীরে কালো দাগ হয়ে আছে। অধ্যক্ষের নির্মম নির্যাতনে সিয়াম অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করেন তিনি। বুধবার মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়। বাড়িতে এসে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাড়ির লোকজন জিজ্ঞাসা করে সব খুলে বলে সিয়াম। এরপর পোশাক খুলে দেখা যায় তার সারা দেহে মারের দাগ। তাকে লালন শাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মারুফ আহমেদ সিয়াম বলে, শনিবার বড় হুজুর কোনো অভিযোগ ছাড়াই আমাকে বেদম মারধর করেন। মাটিতে ফেলে সারা শরীরে লাঠি দিয়ে পেটান ও কিল-ঘুষি মারেন। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে মাদ্রাসায় আটকে রাখেন। বাড়িতে জানাতেও বারণ করেন। আমার মতো অনেক ছাত্রকে তিনি এভাবে নিয়মিত মারধর করেন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাসুদুল হক বলেন, আমি শিক্ষক মানুষ। মারধর করা একটু বেশি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি তার বাবা-মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এবারের মতো যেন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়।

সিয়ামের বাবা মাসুদ করিম বলেন, তিনি একটু বাইরে আছেন। কুষ্টিয়ায় ফিরে আইনের আশ্রয় নেবেন। ছেলেকে নির্যাতনের কঠোর বিচার চান তিনি।


আরও পড়ুন

×