ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শতবর্ষী বিদ্যানিধি পুকুরে ভবন নির্মাণ চলছেই

শতবর্ষী বিদ্যানিধি পুকুরে ভবন নির্মাণ চলছেই
×

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যানিধি পুকুরের ভেতরে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১৩:৩১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ের শতবর্ষী বিদ্যানিধি পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণ চলছেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ রক্ষা কমিটির করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করে এ পুকুরে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। আদালতের সেই নির্দেশনা অমান্য করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। রুলের কোনো কপি পাননি বলে চেম্বার সভাপতি আজিজুল হক দাবি করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ রক্ষা কমিটির পক্ষে আহসান উল্লাহ মাসুদ রিটটি দায়ের করেন। এতে ভূমি সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর মডেল থানার ওসি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্র্রির সভাপতি আজিজুল হক ও পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীরকে বিবাদী করা হয়।
শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই পুকুরটি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ ব্যবহার করে আসছিলেন। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার হলেও তাদের উদাসীনতায় পুকুরটি ক্রমেই দখল ও দূষণের কবলে পড়ে। সিএস ও এসএ খতিয়ানে পুকুরটি ৫৬ শতাংশ হলেও বিএস খতিয়ানে এটির আয়তন ৪১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। কয়েক বছর আগে পুকুরের উত্তর-পশ্চিমাংশে ৮ শতক জায়গার ওপর প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ব্যক্তিগত দখলের কারণে ক্রমেই পুকুরের আয়তন কমতে থাকে।
জানা গেছে, গত বছরের ৩০ জুন চেম্বার সভাপতি আজিজুল হক ও পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর শ্রমিক নিয়ে পুকুর ভরাটের উদ্যোগ নিলে পরিবেশ রক্ষা কমিটি পুকুরের আশপাশের লোকজন নিয়ে বাধা দেয়। এ ঘটনার পর পরিবেশ রক্ষা কমিটি জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুকুরটির মাত্র ১০-১২ শতক জায়গার অস্তিত্ব রয়েছে। বাকি অংশ ভরাট হয়ে গেছে। পুকুর ভরাটের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ রক্ষা কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে। পরে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
এ ব্যাপারে রিটকারী আহসান উল্লাহ মাসুদ জানান, চেম্বার কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় বলেই রুল না মেনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রুলের কপি রিসিভ করিয়ে এনেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার সভাপতি আজিজুল হক বলেন, আমরা রুলের কোনো কাগজ পাইনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় আমাদের এই জায়গা দিয়েছে। ৬৫ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক আমাদের জায়গা দলিল করে দিয়েছেন। পৌরসভা প্ল্যান অনুমোদনের পর আমরা এই জায়গায় ভবন নির্মাণ করছি। কোনো ভুল জায়গায় ভুল কাজ করছি না।
পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক মো. নূরুল আমীন বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করে নোটিশ পাঠিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা চাওয়া হলে আমরা অবশ্যই করে থাকি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার প্রশান্ত বৈদ্যর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে প্রশান্ত বৈদ্য জানান, তারা হাইকোর্টের ফেব্রুয়ারি মাসের রুলের কপি এখনও পাননি। রুলের কাগজ পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক চেম্বারকে জায়গা দেননি। জায়গা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসককে কেন বিবাদী করা হলো, বুঝতে পারছি না।


আরও পড়ুন

×