ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাউল শিল্পীদের অনুষ্ঠান

হামলা-ভাঙচুরে কারা জড়িত খুঁজছে প্রশাসন

হামলা-ভাঙচুরে কারা জড়িত খুঁজছে প্রশাসন
×

ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৩ | ২২:৪৩

সিরাজগঞ্জ শহরে বাউল শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুরের কারণ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, এশার নামাজের সময় উচ্চস্বরে গানবাজনা করার কারণে হামলা হয়েছে। তবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে জামায়াত-শিবিরের ইন্ধন আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা।

দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে শুক্রবার রাতে শহরের বাজার স্টেশনে আব্দুর রউফ মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালে ওই হামলা হয়। এ সময় অন্তত ৮০টি চেয়ার, কিবোর্ড, প্যাড, হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় শব্দনিয়ন্ত্রক সুমন, বাউল শিল্পী হারুনসহ ৭-৮ জন আহত হন। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের দাবি, আশপাশে নামাজ পড়তে আসা ৪০- ৫০ জন মুসল্লি হঠাৎ ওই অনুষ্ঠানে হামলা করেন। হামলার পরপরই সদর থানা ও সদর সার্কেল অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সেখানে যান।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তবে শনিবার সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শক সমাগম তুলনামূলক কম দেখা গেছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাউল শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা সেখানে যান। গোয়েন্দা সংগঠনের সদস্যরাও শনিবার দফায় দফায় সেখানে গিয়ে বাউল শিল্পীদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানা গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজগঞ্জের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘গানের অনুষ্ঠান যখন শুরু হয় তখন এশার নামাজ প্রায় শেষ হয়েছে। হঠাৎ মুসল্লিরা এসে সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের ধারণা জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনে এ হামলা হয়েছে।’

সংগঠনের সভাপতি সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, ‘এশার নামাজের বিরতি দিয়ে আমরা অনুষ্ঠান শুরু করি। তারপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাংস্কৃতিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেবো।’

ঘটনরা নিন্দা জানিয়ে সিরাজগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক দীলিপ কুমার গৌর বলেন. ‘সম্প্রতি বাজার স্টেশন ও আশপাশে ফুটপাতে অবৈধ দখলদার দোকানিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাদের একটি অংশ বাজার স্টেশনে আব্দুর রউফ পাতা মুক্তমঞ্চের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট গড়েছিলেন। আমাদের ধারণা, তাদের পাশাপাশি জামায়াত-শিবির এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

তিনি বলেন, হামলাকারীদের ধরতে এখনও পুলিশ তৎপর হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যমূলক বা জামায়াত-শিবিরের কাজ নয়। এশার নামাজের সময় উচ্চস্বরে গান পরিবেশন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা পুলিশকে জানিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মওলানা আবু বকর সিদ্দীক সমকালকে বলেন, মসজিদের পক্ষ থেকে বাউল শিল্পীদের আগেই সতর্ক করা উচিত ছিল। হামলার পেছনে সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি উগ্রপন্থিদেরও হাত থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে দায়ীদের খুঁজে বের করতে হবে।

পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল সমকালকে বলেন, ‘বাউল শিল্পী গোষ্ঠীর লোকজন অনুষ্ঠান শুরুর আগে পুলিশকে জানায়নি। জানালে হয়তো সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতো। তারপরেও পুলিশ গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে চেষ্টা করছে।’

আরও পড়ুন

×