অভয়নগরে পানির ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ রং মিস্ত্রীর লাশ
নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৪২
যশোোরের অভয়নগর উপজেলায় একটি আবাসিক ভবনের পানির ট্যাংক থেকে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার গুয়াখোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুর রহমান (৪২) একজন রংমিস্ত্রী। তিনি খুলনার টুটপাড়া এলাকার আব্দুর আজিজ খাঁর ছেলে। বাড়িটির মালিক সরকার গ্রুপের ব্যবসায়ী আলমগীর হেসেন। হাবিবুর ওই ভবনে রং করার কাজ করতেন।
ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক মোকছেদ আলী জানান, গত কয়েকদিন ধরে ওই ভবন থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে কোথা থেকে এ দুর্গন্ধ বের হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। শুক্রবার রিজার্ভ পানির ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে কাজ করার সময় দুর্গন্ধ বাড়তে থাকে। তাই সারারাত মোটর দিয়ে ট্যাংকে পানি ফেলে সকাল ১১ টার দিকে একটি মানুষের পা দেখতে পেয়ে মালিক আলমগীর সরকারকে জানালে মালিক পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দুপুর ১টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে।
ভবনের মালিক আলমগীর সরকার বলেন, 'ভবনে দুর্গন্ধ কোথা থেকে আসছে কেয়ারটেকার কে খুঁজতে বলি। শনিবার সকালে সে জানায় পানির ট্যাংকে মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। তখন আমি পুলিশকে খবর দেই।'
নিহতের স্ত্রী নাসরিন সুলতানা বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে আমার সঙ্গে হাবিবুরের কথা হয়েছে। পরদিন বুধবার থেকে তার ফোনে কল ঢুকছিল কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি। বুধবার বিকেলে স্বামীর ফোন থেকে ফোন আসে। ফোন রিসিভ করলে মামুন পরিচয় দিয়ে আমার স্বামীর বিপদের কথা বলে সে। সে (মামুন) জানায় আমার স্বামীকে শ্রমিক ইউনিয়নে ধরে নিয়ে গেছে টাকা দিতে হবে। আমি একটি নম্বরে বিকাশে ৩ হাজার টাকা পাঠাই। তার পর থেকে মামুনের ফোন বন্ধ পাই। বৃহস্পতিবারও নওয়াপাড়ায় আমার স্বামীকে খুঁজতে এসেছিলাম।
অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, হাবিবুরকে ৪ থেকে ৫ দিন আগে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া লাশের হাত ও পা বাঁধা ছিল।
তিনি বলেন, আমরা ভবনের দুই তলার একটি কক্ষে হত্যার আলামত পেয়েছি। লাশের পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাবিবুর নিখোঁজ ছিল।
