ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা
×

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০

ইউনিয়ন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাত ও গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার শিলই ইউনিয়নের শিলই মধ্যেরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দুই পক্ষই মামলা করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিলই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন শিলই মধ্যেরকান্দি গ্রামের সাঈদ ব্যাপারী। সম্প্রতি ওই পদে আসার ঘোষণা দেন তাঁর চাচাতো ভাই বাদশা ব্যাপারী। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য নাম ঘোষণা করেন তাঁর জ্ঞাতি শাহীন ব্যাপারী।

মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরব থেকে ফেরা বাদশা ব্যাপারীর ভাতিজা মাঈনউদ্দিন ব্যাপারীকে লোহার রড ও হাতুড়িপেটা করে সাঈদ ব্যাপারীর লোকজন। রাত ৯টার দিকে তারা হামলা চালায় বাদশা ব্যাপারী ও শাহীন ব্যাপারীর বাড়িতে।

এ সময় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে বাদশা ব্যাপারীর লোকজন বুধবার ভোর ৫টার দিকে হামলা চালায় সাঈদ ব্যাপারীর বাড়িঘরে। এ সময় সেখানেও ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করে হামলাকারীরা।

এ ঘটনার পর বুধবার দিনভর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরে সরেজমিনে শিলই মধ্যেরকান্দি গ্রামে সাঈদ ব্যাপারী, বাদশা ব্যাপারী ও শাহীন ব্যাপারীর বাড়িঘরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ সময় বেশ কয়েকটি তাজা ককটেল এবং গুলির খোসা পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

বাদশা ব্যাপারী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে সাঈদ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছি। এর জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে আমার ভাতিজা সৌদিপ্রবাসী মাঈনউদ্দিনকে মারধর করে তারা।’ এর জের ধরে রাতে অস্ত্রশস্ত্র ও ককটেল নিয়ে তাঁর ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহীন ব্যাপারীর বাড়িতে হামলা হয়। এ সময় সাঈদ ব্যাপারীর লোকজন বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে বলেও অভিযোগ করেন বাদশা ব্যাপারী।

সাঈদ ব্যাপারীর ভাষ্য, তাঁর লোকজনকে বিভিন্ন সময় বাদশা ব্যাপারীর লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদ করলে বুধবার ভোরে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। তিনি প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাচ্চু মিয়া বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে তাজা ককটেল ও গুলির খোসা উদ্ধার করে তারা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান রাত ৮টার দিকে সমকালকে জানান, এ ঘটনার একপক্ষ মামলা করেছে। অপরপক্ষও অভিযোগ দিয়েছে। তা রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তিনি হামলা ও পাল্টা হামলার সংবাদ পেয়েছেন। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

×