ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প: সমিতির ১৩২৪ সদস্যের ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প: সমিতির ১৩২৪ সদস্যের  ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ
×

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৩ | ০৫:৩০

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্যদের ৬৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা জমা না দিয়ে এবং সদস্যদের নামে ঋণ তুলে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক বদরুল আলম ও ফিল্ড অফিসার রিজিয়া পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুন, অফিস সহকারী কামরুজ্জামান ও শিব প্রসাদ বৈদ্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জামিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, কলারোয়ায় ২০১৪ সালে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’। সরকারি এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গ্রামে গ্রামে গড়ে ওঠে এ সমিতি।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অডিট অনুযায়ী উপকারভোগী সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা জমা না দিয়ে ও সদস্যদের নামে ঋণ তুলে ৬৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে।

উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের মোখলেসুর জানান, ২০১৪ সালে সমিতির সদস্য হন তিনি। প্রতি মাসে সঞ্চয়ের টাকাও জমা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে টাকা জমা দেওয়ার বই আজও পাননি তিনি। এদিকে অফিস থেকে উল্টো তাঁকে নোটিশ করা হয়েছে, তিনি ৪৫ হাজার টাকার ঋণ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এ ঋণের বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।

একই গ্রামের শাহিনুর রহমানের ভাষ্য, তাঁর বাবা, ভাই ও বোন ঋণ না নিলেও তাঁদের নামে ঋণ তুলে আত্মসাৎ করেছে সমিতির কর্মকর্তারা।

হরিণা গোয়লচাতর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি কখনও অফিসে যাননি। কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেননি। অথচ তাঁর নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের ঢাকা অফিস থেকে অডিট অফিসাররা উপকারভোগীদের এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।

সাবেক কলারোয়া শাখা ব্যবস্থাপক ও উপজেলা সমন্বয়কারী বদরুল আলম দাবি করেন, তিনি টাকা আত্মসাৎ করেননি। যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

বরখাস্ত হওয়া ফিল্ড অফিসার রিজিয়া পারভীন জানান, বদরুল আলম শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকাকালীন উপজেলার কেঁড়াগাছি সমিতি থেকে সদস্যদের নামে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ভুয়া ঋণ তুলে তাঁকে দেন। ইতোমধ্যে তিনি কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। তিনি মোট ৩৭ লাখ টাকা নিয়েছেন।

৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৩৮ টাকা অনিয়মের অভিযোগে জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুনকে প্রধান শাখা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলার ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী ও শাখা ব্যাবস্থাপক শিরীন সুলতানা জানান, কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন ভুয়া ঋণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা টাকার বিষয়ে ইতোমধ্যে দু’জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী বিশ্বজিত সরদার জানান, এ ঘটনায় দোষীদের নামে ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং টাকা উদ্ধারের জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×