গ্রেট হিমালয়া ট্রেইলে ১০৯ দিন
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার গল্প শোনালেন শাকিল
কাঞ্চনজঙ্ঘা বেসক্যাম্পে পতাকা হাতে শাকিল। ফাইল ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৩ | ০৮:০১ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৩ | ১০:১৫
‘মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি। প্রতি মুহূর্তেই মনে হয়েছে এই বুঝি প্রাণটা বেরিয়ে যাচ্ছে। গ্রেট হিমালয়া ট্রেইলের এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দুর্গম পথের প্রতিটি ইঞ্চিই মনে হয়েছে ভীষণ রকম ঝূঁকিপূর্ণ। তবে সেই পথ পাড়ি দিয়েও তৃষ্ণা মেটেনি।’
হা-মীম গ্রুপ ও দারাজের সহায়তায় স্বপ্নপূরণের দুঃসাহসী যাত্রায় একশ নয় দিনে গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল পাড়ি দিয়ে দেশে ফেরার পর গতকাল (শনিবার) প্রথমবারের মতো তরুণ প্রজন্মের সামনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন গাজীপুরের ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা গ্রামের পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।
এবার ভারতের সিকিম ও নেপালজুড়ে অবস্থিত পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা’র চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন দেখছেন শাকিল।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পর্বতারোহী শাকিল জানান তাঁর অজানা বহু কথা। আর সেই কথা শুনলেন এ প্রজন্মের স্বপ্নবাজ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী।
শ্রীপুরের পাঠইচ্ছা পল্লী উন্নয়ন পাঠাগারের আমতলায় আয়োজিত এই অনুশঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ড. সেলিম রেজা।
১০৯ দিনে শাকিল নেপালের পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত বিস্তীর্ণ গ্রেট হিমালয়ার এক হাজার ৭০ কিলোমিটার দুর্গম গিরিপথ পাড়ি দিয়েছেন। ৫ হাজার ৭৫৫ মিটার উঁচু তাশি-লাপৎসা পর্বতের চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। হিমালয়ার তাশি-লাপৎসা পর্বতের চূড়া স্পর্শ করে নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে আসার পর বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল নিয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে নেপাল থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৯৩ জন অভিযাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সফলভাবে এই অভিযাত্রা সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৩২ জন অভিযাত্রী। সেই হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশের শাকিল সেই তালিকায় ৩৩তম অভিযাত্রী।
শাকিল জানান, নেপালের পশ্চিম প্রান্তের হিলশা বর্ডার থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা বেস ক্যাম্প পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তার সময় লেগেছে ১০৯ দিন। এই অভিযানে শাকিল ২৯টি দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যে ১৪টিই ছিল বিপদাচ্ছন্ন। বেশ কয়েকবার বিপদের মুখে পড়েও ফিরে এসেছেন। একাধিক গিরিপথে রীতিমতো মৃত্যুর হাট ছুঁইয়ে বেরিয়ে এসেছেন। এগিয়ে গেছেন সামনে।
শাকিল বলেন, 'আমার এই অভিযানে এগিয়ে এসেছিল হা-মীম গ্রুপ। দারাজও সহযোগিতা করেছে। দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত হা-মীম গ্রুপ ও দারাজের প্রতি আমি কতৃজ্ঞ।' খুব শীঘ্রই কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ আরোহণে যাবেন বলেও জানান শাকিল।
- বিষয় :
- শাকিল
- হিমালয়া ট্রেইল
- হা-মীম
- অভিযাত্রী
- গাজীপুর
