আগাম আলু আবাদে প্রস্তুত চাষি, প্রয়োজন দ্রুত বিএডিসির বীজ
ছবি: ফাইল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৩:৪৬ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৩:৪৬
ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। বর্তমানে শাকসবজিতেও অবদান রাখছে উত্তরের এই জেলা। বিশেষ করে আলু আবাদ করে এখানের চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জেলার উৎপাদিত আলু অন্য জেলাতেও সরবরাহ হয়। আগাম জাতের আলু আবাদ করলে একই জমিতে আরেকটি রবিশস্য আবাদ করতে পারেন চাষিরা। ফলে আগাম জাতের আলুর আবাদ বাড়ছে।
অনেক চাষির অভিযোগ, তাদের জমির উপযোগী আলুবীজ সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে পান না। তাদের মুন্সীগঞ্জসহ অন্য জেলা থেকে বীজ নিয়ে এসে বপন করতে হয়। এতে দাম পড়ে প্রায় দ্বিগুণ।
চাষিদের সুবিধার জন্য বিএডিসির বীজ সরবরাহ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান।
আগাম জাতের আলুর সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় সদর উপজেলার উলিপুরে। সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের বেশির ভাগ পাকা আমন কাটা হয়ে গেছে। অনেক জমির ধান মাড়াইও শেষ। এখন সেই জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করছেন চাষিরা। এসব জমি প্রায় তৈরি, অপেক্ষা শুধু আলুবীজের। সদরের আউলিয়াপুর, মাঝাডাঙ্গা, দিঘনসহ আশপাশের এলাকার চিত্রও প্রায় একই।
উলিপুর গ্রামের চাষি ইসমাইল আলী জানান, সাধারণত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগাম আলুবীজ বপন শুরু হয়। কয়েক দিন আগে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে, নয়তো অনেকের জমিতেই বীজ বপন হয়ে যেত। তিনি বলেন, এবার আলুর বীজের দাম বেশি। পরিবহন খরচ বেশি। আবার বেসরকারিভাবে উৎপাদিত এসব বীজের ফলন কম, ঝুঁকিও বেশি। তাই বিএডিসি থেকে বীজ সরবরাহের দাবি তাদের।
একই দাবি জানিয়ে ওই এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, বিএডিসির বীজের মান নিয়ে চিন্তা নেই, ফলনও ভালো। এই বীজ পেলে দ্রুত বাজারে আগাম আলু উঠবে এবং বাজারে আলুর দাম অনেকটা কমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২২ সালে জেলার ৪৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। ফলন হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৫ টন। এবার একই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে কার্যক্রম শুরু করেছে দপ্তর। জেলায় যে আগাম জাতের আলু আবাদ হয় তা মোট চাষাবাদের ২৫ শতাংশ। ফলে এই আলু দ্রুত বাজারে উঠলে দাম কমার ব্যাপারে আশাবাদী দপ্তরটির কর্মকর্তারাও।
কৃষকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএডিসি দিনাজপুরের উপপরিচালক (বীজ বিপণন) আবদুর রশিদ বলেন, কৃষকরা যাতে আগাম আলুবীজ পান, সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আলুবীজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, দ্রুতই বীজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
