ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ফুটপাতে নেই ইফতার বিক্রির হাঁকডাক, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

ফুটপাতে নেই ইফতার বিক্রির হাঁকডাক, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
×

বগুড়ার শহরের কাঁঠালতলা মোড় খা খা করছে। ছবিটি শনিবার বিকেলে তোলা -সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:৪২

করোনাভাইরাসের কারণে বগুড়ায় সড়কের ধারে এবং মোড়গুলোতে ইফতার সামগ্রী বিক্রি বন্ধে রয়েছে । কোথাও নেই ইফতার কেনা-বেচার ধুম। অন্য বারের মতো  নানা পদের পসরা সাজানো খাবার নেই। বিক্রেতাদের হাঁকডাক নেই, ক্রেতাও নেই। ইফতার বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওযায় বগুড়া শহরের প্রায় ২ হাজার ক্ষুদে ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন। অন্য সব দোকান-পাট বন্ধ থাকলেও রমজানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবন ধারনের জন্য সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা ছাড়া আর বিকল্প কিছুই তারা ভাবতে পারছেন না। 

বছরের অন্য সময় যারা ফেরি করে ঝাল-মুড়ি ও ছোলা-বাদামসহ নানা খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মূলত তারাই রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী কেনা-বেচা করেন। তবে রমজানে শহরের ছোট ছোট যেসব হোটেল বন্ধ থাকে তারাও এ মৌসুমী ব্যবসা শুরু করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের উত্তরে মাটিডালি থেকে দক্ষিণে বনানী এবং পশ্চিমে চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বে সাবগ্রাম পর্যন্ত ৭০ বর্গ কিলোমিটার বগুড়া পৌর এলাকায় সহস্রাধিক ভ্রাম্যমাণ ইফতারির দোকান বসতো। বড় বড় সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লার মোড় এবং গলিপথেও ছোট-বড় দোকানে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার পণ্য কেনা-বেচা হতো।  দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া বেচা-কেনা ইফতারের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত চলতো। শহরের সবচেয়ে জমজমাট ইফতারি বাজার বসতো কাঁঠাতলা এলাকায়। তবে শনিবার প্রথম রমজানের দুপুরে ওই এলাকায় কয়েকজন লেবু ও কলা বিক্রেতা ছাড়া আর কাউকে চোখে পড়েনি।

বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এর সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে এ জেলাকে লকডাউন ঘোষণ করে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে গত ২৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রমজানে ভ্রাম্যমাণ ইফতার সামগ্রী বেচা-কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। 

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিজ্জামান জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বগুড়া হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন মন্ডল জানান,  ভ্রাম্যমাণ ইফতার সামগ্রী বিক্রেতাদের মধ্যে দেড় হাজারই হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। রমজানে হোটেল বন্ধ থাকে বলে তারা ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। 

তিনি বলেন, যারা ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের এখন চরম দুঃসময় যাচ্ছে। স্ত্রী ছেলে-মেয়ে নিয়ে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন

×