'এএসআইর থাপ্পড়ে' ফাঁড়িতে দোকান কর্মচারীর মৃত্যু
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১০:১৬ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১০:৪১
চট্টগ্রাম নগরীর টেরিবাজারে লকডাউনের মধ্যে দোকান খোলা পাওয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেওয়ার পর এক 'এএসআইয়ের থাপ্পড়ে' ৬০ বছর বয়সী এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় নগরের কোতোয়ালী থানার বক্সিরহাট ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কর্মচারীর নাম গিরিধারী চৌধুরী। তিনি টেরিবাজারের প্রার্থনা বস্ত্রালয়ের ম্যানেজার।
ওই দোকানের নিখিল দাশ নামের অপর এক কর্মচারীকেও ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। তার অভিযোগ, পুলিশের এক কর্মকর্তা থাপ্পড়ে মারার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান গিরিধারী। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা ও কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।
প্রার্থনা বস্ত্রালয়ের কর্মচারী নিখিল দাশ জানান, এপ্রিল মাসের বেতনের জন্য মালিকের নির্দেশে হিসাব তৈরি করতে তারা দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ গিয়ে তাদের ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর টহল পুলিশের প্রধান এএসআই কামরুল ইসলাম গিরিধারীকে থাপ্পড় মারেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, টেরিবাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় দোকানের ভেতর থেকে তিন কর্মচারী মালামাল বের করছিলেন। টেরিবাজারের স্থানীয় লোকজন চুরি ভেবে টহল পুলিশ ডেকে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এবং দোকান মালিককে ফোন করার জন্য গিরিধারী চৌধুরীকে বলে। সেখানে গিরিধারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ মারধর করেছে- প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ এমন অভিযোগ করেনি। তবে বিভিন্নভাবে কেউ কেউ বলেছেন, মারধর করা হয়েছে। এটা তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি করেছি। তাদের একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। এছাড়া টহলদলে যে তিনজন ছিল তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে টেরিবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ আছে। কিন্তু বিকেলে টেরিবাজারের মোহাদ্দিস মার্কেটের প্রার্থনা বস্ত্রালয় খুলে সেখান থেকে কয়েকজন কর্মচারী বস্তায় করে কাপড় বের করছিলেন। বস্তাগুলো রিকশায় তোলার সময় মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদের জেরা করে। পরে সেখানে টহল পুলিশ আসে। পুলিশ চার বস্তা কাপড়সহ দুই কর্মচারীকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়। পরে শুনেছি, সেখানে একজন কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।‘
তবে টেরিবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করতেন এএসআই কামরুল ইসলাম। লকডাউনে দোকান খোলা পেলেই ব্যবসায়ীদের বেধড়ক পেটাতেন তিনি। কয়েকদিন আগেও বক্সিরহাটের বদর হোটেলের এক কর্মচারীকে পিটিয়েছেন তিনি।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- পুলিশ হেফাজত