ইকোপার্কে অনুমোদনহীন ‘মিনি চিড়িয়াখানা’
মধুটিলা ইকোপার্কে খাঁচায় বন্দি শিয়াল সমকাল
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪ | ০০:২৬
নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে গড়ে তোলা হয়েছে অনুমোদনহীন মিনি চিড়িয়াখানা। বিভিন্ন বন্যপ্রাণী আটকে রেখে টিকিটের বিনিময়ে দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশে বন্যপ্রাণী আটকে রেখে নিয়মিত খাবার না দেওয়ার অভিযোগ তুলে চিড়িয়াখানাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে শিয়াল, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এ ছাড়া রয়েছে শকুন, কালিম, শালিক, টিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। প্রচণ্ড তাপদাহে প্রাণীগুলো অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ঠিকমতো খাবার না পেয়ে কাহিল অবস্থায় রয়েছে পশুপাখিগুলো। এই চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের কোন খাদ্য কী পরিমাণ দিতে হবে– এমন অভিজ্ঞ দায়িত্বশীল ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, গরমের কারণে চিড়িখানার পশুপাখিদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের ভাষ্য, চিড়িয়াখানা কীভাবে চলে আসছে জানে না তারা। কোনো অনুমতি নেই এই চিড়িয়াখানার। বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকা প্রাণী উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য এখানে রাখা হয়। ভালো হয়ে গেলেই আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, যেখানে মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে, সে জায়গাটি ছিল শিশুপার্কের। মধুটিলা ইকোপার্কে ঘুরতে আসা শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক গড়ে তোলা হয়। কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় বন বিভাগের যোগসাজশে ইজারাদার বন্য পশুপাখি নিয়ে গড়ে তুলেছেন মিনি চিড়িয়াখানা।
শেরপুরের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের সভাপতি রফিক মজিদ বলেন, যারা রক্ষা করবেন তারাই প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। মিনি চিড়িয়াখানার নামে ব্যবসা করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানাটি বন্ধ ও প্রাণীগুলো অবমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ইকোপার্কে তিনি যোগদান করার পর নতুন করে চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়নি। এটি আগে থেকেই চলে আসছে। এটিকে চিড়িয়াখানা বলা যায় না।
- বিষয় :
- শেয়াল
