পরিবারকে আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে অর্থ দাবি, কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ০৪:০২ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ০৫:২৭
কুমিল্লার বরুড়ায় আপত্তিকর ছবি মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের হুমকিতে লজ্জায় এক কলেজছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামে।
ওই কলেজছাত্রী সিংগুর গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াছ মিয়ার মেয়ে মারিয়া আক্তার গাজী (১৯)। তিনি চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকালে ওই কলেজযাত্রী আত্মহত্যা করেন। এরপর তার পরিবার গত বৃহস্পতিবার বরুড়া থানায় মামলা করে।
মামলা ও কলেজছাত্রীর পরিবার সূত্র জানায়, কলেজছাত্রী মারিয়া ২ বছর আগে তাদের পার্শবর্তী খলারপাড় গ্রামের জাবেদ মজুমদার নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। জাবেদ মজুমদার খলারপাড় গ্রামের মোস্তফা মজুমদারের ছেলে। প্রেমের ঘটনাটি জানাজানি হলে মারিয়ার পরিবার ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ছেলেকে সাবধান করার জন্য বলেন। এরপর সমাজের মুরব্বিদের নিয়ে দুই পরিবার একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজ নিজ পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েকে সাবধান করবে যাতে একজন-অন্যজনের সঙ্গে কোন যোগাযোগ না করতে পারে। কিন্তু জাবেদ পরিবারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে প্রেমের সম্পর্ক পূণরায় গড়ে তুলতে ওই কলেজছাত্রীকে বিভিন্ন কায়দায় প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন। মারিয়া অস্বীকৃতি জানালে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। সম্পর্ক না রাখলে গোপন ক্যামরায় ধারণকৃত আপত্তিকর ছবি মেসেঞ্জারে পাঠানো ও ফেসবুকে প্রকাশের হুমকি দেন। এছাড়া বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
মারিয়ার মা সাদিয়া আক্তার জানায়, আপত্তিকর ছবিগুলো মারিয়াকে পাঠানোর পর তার বাবার ফেসবুক মেসেঞ্জারেও পাঠায় জাবেদ। শুধু তাই নয় মারিয়ার বড় ভাই এবং আমাকেও ওই ছবিগুলো পাঠিয়ে বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এসব কথা আমার মেয়ে জানতে পেরে গত সোমবার বিষপান করে আত্মহত্যা করে। প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে হত্যার বিচার চাই । আমি বরুড়া থানায় জাবেদ, তার বাবা মোস্তফা মজুমদার ও তিন ভাইসহ ৬জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি। মেসেঞ্জারের জাবেদের হুমকি ও কথোপকথনের সব স্ক্রিনশট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরুড়া থানার এসআই আনিছুর রহমান জানান, থানায় মামলা করার পর আমরা একাধিকবার ঘটনা তদন্ত করতে মাঠে গিয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছি। তবে প্রধান আসামিসহ সবাই পালাতক রয়েছে। তারপরও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।