১২ দিন ধরে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাচ্ছে না জয়পুরহাট স্বাস্থ্য বিভাগ
প্রতীকী ছবি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ০৪:৪২ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ০৫:০৯
প্রথম দিকে রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় জয়পুরহাটে। তখন ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয় এ জেলা। নমুনা সংগ্রহের সাথে সাথে ফলাফলও পাওয়া যেত ২৪ ঘন্টায়। অথচ ১২ দিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার ফল জানাতে পারছে না জয়পুরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত ২ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত পাঠানো ৮৬৪ জনের নমুনার ফলাফল ১৪ জুন সকাল ১১টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আবার গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো ১৫৭ জনের নমুনার ফলাফলও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে জেলার ১ হাজার ২১ জনের নমুনা পরীক্ষার কোন তথ্য দিতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ জেলার পাঠানো নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে। তখন এ জেলার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল খুব দ্রুতই পাওয়া যেত। পরে তা বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব এবং ঢাকার শেরে বাংলা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে পাঠানো হয়।
তবে সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কিট সঙ্কটের কারণেই ওই ল্যাবগুলো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠাতে বিলম্ব করছে। নমুনা পরীক্ষা বিলম্ব হওয়ার কারণে জেলায় করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিও বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ল্যাবে ৯৮ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে গত ২৪ মে। অথচ সেগুলোর কোন রিপোর্ট এখন পর্যন্ত পাইনি। বারবার তাগাদা দিয়েও লাভ হচ্ছে না। আবার রাজশাহীতে জমা থাকা ৫৯ জনের নমুনারও কোন রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। জেলায় এ পর্যন্ত ২১২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১২ দিন ধরে কোন রির্পোট না পাওয়ায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা জানানো সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল উপজেলা সদরের বাসিন্দা তারা বেগম বলেন, আমার বাড়ির একজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। তাই ঈদের দুইদিন আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নমুনা নেওয়া হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমাদের ফলাফল আসেনি। আমরা খুব চিন্তায় আছি।
সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, ‘গত ২ জুনের পর থেকে জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা পরীক্ষার কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। ঢাকায় গত ১ জুনে পাঠানো নমুনার ফলাফল এসেছে ৬ জুনে। এরপর আর কোনো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি।’ ঢাকায় ৮৬৪ জন, রাজশাহীতে ৫৯ এবং বগুড়ায় ৯৮ জনসহ মোট ১ হাজার ২১ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়ার কথা তিনি নিশ্চিত করেছেন। ফলাফল বিলম্বের কারণে জেলায় করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়ছে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেও কি কারণে বিলম্ব ঘটছে তার কোন ব্যাখ্যা দেননি।