জনপ্রিয়তার অনন্য নজির গড়েছিলেন কামরান
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান -ফাইল ছবি
চয়ন চৌধুরী, সিলেট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ১৮:৩৬ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ২৩:৪১
সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান একটি অবিচ্ছেদ্য নাম ছিলো। দীর্ঘ সময় ধরে সিলেটে আওয়ামী লীগের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন কামরান। মিষ্টভাষী কামরান সবার সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার অনন্য নজির গড়ে তুলেছিলেন; যা সিলেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তৎকালীন সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হন কামরান। নগরবাসীর কাছে ‘মেয়র সাব’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা কামরান দীর্ঘ তিন দশক সিলেট শহর ও পরবর্তিতে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করা কামরানের ১৯৬৯ এর উত্তাল সময়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান তিনি। সেই থেকেই সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন।
টানা ১৫ বছর সিলেট পৌরসভার কমিশনার ছিলেন কামরান। মাঝখানে প্রবাসে থাকায় একবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। ফিরে এসে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ২০০২ সালে পৌরসভা থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন হলে মেয়রের দায়িত্ব পান কামরান।
২০০৩ সালে নির্বাচন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ওয়ান ইলেভেনের সময় দুই বার কারান্তরীণ হন কামরান। ২০০৮ সালে কারান্তরীণ অবস্থায় নির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হোন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি নগর পিতার দায়িত্ব হারান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মেয়র নির্বাচিত হতে পারেননি।
১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন কামরান। ২০০৫ এ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ তিন দশক সিলেটের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব হারান। সর্বশেষ দুটি কাউন্সিলে কামরান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও দলের প্রয়োজনে পুরো সিলেট বিভাগ চষে বেড়িয়েছেন কামরান। প্রত্যেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পক্ষে সরব ছিলেন তিনি। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে 'সুবক্তা' কামরান দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সবসময় প্রচার চালিয়েছেন।
রোববার জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের অবসান হলো।
গত ৭ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কামরানকে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ইন্তেকাল করেন।