অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে নিয়ে বিপাকে ভিক্ষুক
ছবি গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৫ | ২১:৫৩
দেবিদ্বারে ভিক্ষুকের ঘরে ২৪ দিন ধরে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী। বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেন না। খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর স্বজনদের সন্ধান মিলছে না। তাঁকে নিয়ে এই শীতের মধ্যে বিপাকে পড়েছেন ভিক্ষুক আয়েশা বেগম। তাঁর বাড়ি ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১২ ডিসেম্বর আয়েশা বেগম সুবিল বাজারে ভিক্ষা করার সময় ১৯-২০ বছর বয়সী বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তাঁর খোঁজখবর ও পরিচয় জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়ে আয়েশার পেছনে পেছনে তাঁর বাড়িতে চলে আসেন। এর পর ২৪ দিন ধরে আয়েশার আশ্রয়েই আছেন ওই তরুণী। আয়েশা সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে আসছেন। প্রতিবন্ধী তরুণী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, খাতা-কলম এগিয়ে দিলে তাঁর নামটা অনেক কষ্টে আকলিমা লিখতে পারলেও আর কিছুই লিখতে পারেননি। যে কারণে তাঁর স্বজনদের সন্ধান মিলছে না।
এদিকে তরুণীর প্রসব সময় চলে আসায় তাঁর সেবা ও চিকিৎসা নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছেন আয়েশা বেগম।
তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। বাবা নেই, মানসিক প্রতিবন্ধী মা মারা গেছেন প্রায় ৫ বছর আগে। বাবার বাড়িতে থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজের এবং প্রতিবন্ধী ছেলের ভরণপোষণ করেন তিনি। তার ওপর অচেনা এই অন্তঃসত্ত্বা তরুণী এসেছে। এখন তার সেবাযত্ন ও ভরণপোষণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শনিবার স্থানীয় এক বিত্তবানের সহায়তায় উপজেলা সদর থেকে তাঁর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ওষুধপথ্য নিয়ে এসেছেন। তাঁকে একলা ফেলে ভিক্ষা করতেও যেতে পারছেন না।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হলে বিষয়টি আমার নজরে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে নিয়ে আয়েশা বেগমের বাড়িতে যাই এবং প্রতিবন্ধী মেয়েটির খোঁজখবর নিই। তাঁকে শীতবস্ত্রসহ নগদ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে আসি। মেয়েটির প্রসবকালীন সব চিকিৎসা ও পরবর্তী সময়ে আবাসন এবং জীবনযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্য করা হবে।’
- বিষয় :
- কুমিল্লা
- অন্তঃসত্ত্বা
